নিউ ইন্ডিয়া বাজার শক্তিতে বিশ্বাসী, বিনিয়োগের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য হবে: প্রধানমন্ত্রী মোদী

কোভিড-১৯ অতিমারী শুরু হওয়ার পরে এই প্রথম এত অকপট সাক্ষাৎকার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের লড়াই থেকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা- সব দিকই উঠে এসেছে নয়াদিল্লিতে প্রণব ঢল সামন্ত এবং বোধিসত্ত্ব গঙ্গোপাধ্যায়ের নেওয়া এই একান্ত সাক্ষাৎকারে

অর্থনীতি
প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ছন্দে ফিরছে দেশের অর্থনীতি। এমনটাই মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দাবি, সম্প্রতি যে সংস্কার কর্মসূচি তাঁর সরকার নিয়েছে, তা বিশ্বের কাছে এই বার্তাই বহন করছে যে নতুন ভারত বাজার এবং বাজারের শক্তিতে বিশ্বাস রাখে। তাঁর এই আশাবাদিতার পিছনে রয়েছে পাঁচটি সূচক- কৃষি, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ, উৎপাদন শিল্পের উন্নতি, গাড়ির বিক্রি এবং ইপিএফও-র গ্রাহক বৃদ্ধি, যা চাকরির বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতবাহী। তাঁর কথায়, ‘আমি মনে করি যে বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামোয় জোর দেওয়াটাই পূর্বাবস্থায় ফেরা এবং বৃদ্ধির পক্ষে সবচেয়ে বড় সহায়ক হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, ‘নতুন ভারত যাতে পৃথিবীতে লগ্নির সবথেকে পছন্দসই গন্তব্য হয়ে ওঠে, সে জন্য আমরা আমাদের সংস্কার কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

নতুন স্টিমুলাস প্যাকেজ আসবে কি? প্রধানমন্ত্রীর জবাব, ‘অর্থনীতিকে চাঙা করার জন্য ঠিক সময়মতো দরকারি পদক্ষেপ আমরা নিতেই থাকব। নিশ্চিত করা হবে ম্যাক্রো-অর্থনীতির স্থিতিশীলতাও।’

অতিমারীর মোকাবিলা
প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন, তাঁর সরকার একেবারে ঠিক সময়ে লকডাউন এবং আনলকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে বহু প্রাণ বেঁচেছে। তাঁর কথায়, ‘অতিমারীর গুরুত্ব আগে থেকে আন্দাজ করে, অত্যন্ত তৎপর ভাবে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত, যে পদক্ষেপে সরকার এবং সমাজকে সম্পূর্ণ ভাবে সামিল করা হয়েছে।’ মোদীর দাবি, ভারতের পদক্ষেপ যে কতটা বিজ্ঞানসম্মত, তা বোঝা গিয়েছে বিভিন্ন সমীক্ষা ও গবেষণায়। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও তাড়াতাড়ি ছড়ানো এবং আরও অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু ঠেকিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ।

তা বলে এখনই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হতে নারাজ প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘ভাইরাস তো এখনও রয়েছে। আমরা গা-ছাড়া মনোভাব দেখালেই তা আবার চেপে বসবে। আমি বিশ্বাস করি, ভাইরাসের গতিতে যে ভাটা এসেছে, তা নিয়ে উদ্‌যাপন না-করে আমরা বরং আমাদের প্রত্যয়, আমাদের আচরণ ও আমাদের ব্যবস্থাকে দৃঢ়তর করে তুলি।’ এখানেই তাঁর সরকারের মনোভাব স্পষ্ট করে মোদী বলছেন, ‘সুদিনের আশা করা যাক, কিন্তু প্রস্তুত থাকতে হবে সবচেয়ে দুর্দিনের জন্যই। করোনাভাইরাসকে হালকা ভাবে নেওয়ার কোনও কারণ এখনও নেই।’

ভ্যাকসিন নিয়েও দেশবাসীকে আশার বার্তা শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আশ্বাস, ‘আমি দেশকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, টিকা একবার চলে এলে প্রত্যেককে টিকা দেওয়া হবে। একজনও বাদ যাবেন না।’

প্রসঙ্গ ধরে ধরে বিরোধীদের সমালোচনার কঠোর জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এগুলো সবই তাঁর সরকারের প্রাপ্য কৃতিত্বকে খাটো করার অপচেষ্টা। যেমন, অতিমারী মোকাবিলার প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, ‘আমাদের দেশে সংক্রমণের বর্তমান সংখ্যাটা দেখার সময় এটাও মনে রাখতে হবে যে, মার্চে বিশেষজ্ঞরা কী বিপুল সংখ্যায় আক্রান্তের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সরকারকে কৃতিত্ব বঞ্চিত করতে গিয়ে নিন্দুকরা আসলে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসামান্য লড়াইকেই ছোট করছেন।’ প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিত, তাঁর সরকার এই কোভিড অতিমারীর আবহে জনকল্যাণে যে পদক্ষেপ করেছে, তা খুব অল্প সময়ে সঙ্কটাপন্ন মানুষের কাছে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, ‘আগে এমনকী ছোটখাটো প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছত না, দুর্নীতিও ছিল ভয়াবহ। কিন্তু আমরা খুব অল্প সময়ে বিরাট সংখ্যায় মানুষের কাছে এই সঙ্কটকালে ত্রাণ পৌঁছে দিতে পেরেছি, কোথাও দুর্নীতিরও কোনও অভিযোগ ওঠেনি।’ এ ব্যাপারে আপনার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী? মোদীর জবাব, ‘বহু বিশেষজ্ঞ এবং সংবাদপত্র যতই কর্পোরেট সেক্টরের হয়ে সওয়াল করুক না-কেন, বিপন্নদের বাঁচানোই আমাদের লক্ষ্য।’

সম্প্রতি পাশ হওয়া কৃষি বিল নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষেরও জবাব দিয়েছেন মোদী। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ দিন ধরেই এই সংস্কারের সুপারিশ করছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ সেই একই- বিরোধীরা কেন্দ্রকে প্রাপ্য কৃতিত্ব দিতে চাইছে না।

Reply