খামতি প্রধানমন্ত্রীর! তিনি বেকারদের রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারেননি, মোদিকে বিধলেন রাহুল

বিহারে মহাজোটের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে সামিল হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার মতে, যুবসমাজ কোন অংশে কম নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নিতিশ কুমারের মধ্যেই খামতি রয়েছে।বেকারত্ব, অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং বিতর্কিত কৃষি আইন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেয় রাহুল গান্ধী।

বিহারের চম্পারনে প্রথম সভা করেন রাহুল। ওই সভায় উপস্থিত হয়ে রাহুল বলেন,”২০১৪-য় চিনি কারখানাগুলি চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছিলেন কারখানায় তৈরি চিনি দিয়ে এসে চা খেয়ে যাবেন। আপনারাই বলুন, প্রধানমন্ত্রী এসে চা খেয়ে গিয়েছেন?”

নিজের খামতি ঢাকতে প্রধানমন্ত্রী বেকারত্ব নিয়ে কোন কথা বলেন না বলেও দাবি করেন রাহুল। তিনি বলেন,”আজকাল বেকারত্বের প্রসঙ্গ মুখেই আনেন না প্রধানমন্ত্রী। কারণ উনি জানেন, বিহারের মানুষ আর ওঁর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করবেন না। বিহারের মানুষকে কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে যেতে হবে কেন?

বিহারের যুবকরা কোনও অংশে কম? খামতি আসলে নীতীশ কুমার এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যেই রয়েছে। তাই বিহারবাসীর জন্য রোজগারের বন্দোবস্ত করতে পারছেন না তাঁরা। কংগ্রেস দীর্ঘদিন কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল। কী ভাবে দেশ চালাতে হয় আমরা জানি। কিন্তু আমাদের একটাই খামতি, আমরা বুক ফুলিয়ে মিথ্যে বলতে পারি না।”

বিতর্কিত কৃষি আইন নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। পাঞ্জাবের প্রধানমন্ত্রী কুশপুত্তলিকা দা’হ করা নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন,”দশেরায় সাধারণত রাবণ, কুম্ভকর্ণ এবং মেঘনাদের কুশপুতুল পো’ড়া’নো হয়। কিন্তু এ বছর পঞ্জাবে নরেন্দ্র মোদী, অম্বানীজি এবং আদানিজি-র কুশপুতুল পো’ড়া’নো হয়েছে।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, ভারতের কৃষকরা দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল পো’ড়া’চ্ছেন। কিন্তু ২০০৬ সালে নীতীশ কুমার যে ভুল করেছিলেন, আজ প্রধানমন্ত্রীও সেই একই ভুল করছেন। শহরের জীবনযাপন গ্রামের উপরই নির্ভরশীল। আর গ্রামের ভরসা যে কৃষক, তিনি ফসলের উপর নির্ভরশীল।

কৃষককে বাদ দিয়ে শহুরে জীবন অচল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী যে আইন এনেছেন, তাতে সরাসরি কৃষকদের উপরই আ’ক্র’মণ নেমে এসেছে। ২০০৬ সালে বিহারে বাজার ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়েছিল। আজও বিহারের আখচাষিরা ফসলের সঠিক মূল্য পান না। আর সেই কারণেই কাজের খোঁজে বাইরে যেতে হয় তাঁদের।”

এদিন রাহুল গান্ধী বলেন,”ব্রিটেনের মতো মহাশক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে লড়তে চম্পারণ থেকেই যাত্রা শুরু করেছিলেন মহাত্মা গাঁধী। কারণ উনি জানতেন আসল ভারত এখানেই। কিন্তু আজ বিহারের যুবকদের বলা হচ্ছে, স্বপ্ন দেখো, কিন্তু বিহারে রোজগারের আশা কোরো না। তার জন্য বেঙ্গালুরু, হরিয়ানা যেতে হবে।

২ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টোটা। হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। লক্ষ লক্ষ বিহারবাসীকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

লকডাউনে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়েছে শ্রমিকদের। সেইসময় খাবার, জল মিলেছে কি? লকডাউন এবং নোটবন্দি, দু’টো সিদ্ধান্তের পিছনে সরকারের একটাই লক্ষ্য ছিল, কৃষক এবং ছোট ব্যবসায়ীদের রোগজারের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া”

Reply