“রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দরকার নেই, বাংলার সরকারই বদল হবে”, বললেন অমিত শাহ

কিছুদিন আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবস্থা নিয়ে রিপোর্ট দিতে দিল্লিতে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। নির্বাচনের আগে থেকে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানান তিনি এবার অমিত শাহের বাংলায় আসার সঙ্গে সঙ্গে আবারও রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠলো। নিউটাউনের পাঁচ তারা হোটেল থেকে এই প্রশ্নের জবাব দিয়ে অমিত শাহ বলেন,”৩৫৬ ধারা জারির আর দরকার হবে না, ততদিনে সরকারই বদলে যাবে।”

সাংবাদিক বৈঠকে শামিল হয়ে অমিত সহ বাংলায় বর্তমান রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নেতিবাচক দিকগুলির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,”এ রাজ্যে এখন তিনটি আইনের শাসন চলছে। ভাইপোর জন্য আইন, ভোটব্যাংকের জন্য আইন এবং তারপর সাধারণ মানুষের জন্য আইন।”

এ রাজ্যে প্রশাসনকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে, রাজনীতিতে অপরাধের মাত্রা বাড়ছে বলে দাবি অমিত শাহের। একইসঙ্গে দিনের-পর-দিন রাজ্যে রাজনৈতিক হ*’ত্যা ঘটে চলেছে তাও তুলে ধরেন তিনি।

এনসিআরবি তালিকার কথা তুলে ধরে রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেন অমিত শাহ। অপরাধের তালিকায় বাংলার নাম শীর্ষে বলে জানান তিনি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন মহিলা হয়ে ব্রাজ্জের মহিলারা কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাসঙ্গিকতা কমেছে বলে মনে করেন অমিত শাহ। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসবে এবং তাদের ওপর মানুষের আশীর্বাদ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত, কিষাণনিধি যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত মানুষজনকে সমস্ত সুবিধা দেওয়া হবে। পুজোর আগেই এই দুই কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে চালু করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু তবুও মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সেই প্রকল্প চালু করেন নি।

বিমল গুরুং এবং নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সাংবাদিকরা অমিত শাহের কাছে প্রশ্ন করেন। যদিও কোনো প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব অমিত শাহ দেননি। তাকে প্রশ্ন করা হয়,একুশে বাংলা দখলের লক্ষ্য স্থির করা সত্ত্বেও কেন মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নেই? এই প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহ জানান, অনেক সময় এমন হয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ছাড়া ভোট লড়েছেন। জয়লাভের পর মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঠিক করা হয়েছে। বাংলা তে ঠিক একই প্রক্রিয়াতেই চলছে বিজেপি।

শাসক দলের পক্ষ থেকে অনেকবার রাজ্যপালকে বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। অনেকবার বলা হয়েছে যে তিনি সংবিধানের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। এদিন অবশ্য অমিত শাহ রাজ্যপালের পাশেই দাঁড়ান।

তিনি বলেন, রাজ্যপাল যা করেছেন তা সংবিধান মেনেই করেছেন। এরপর তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন,”দার্জিলিংয়ে উনি গেলেন, ডিএম ওনার সঙ্গে দেখা করলেন। আর তার পরেরদিনই ওই ডিএমকে বদলি করে দেওয়া হল। এর কারণ কী, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই জানতে চাইছি।” একদিকে একুশের নির্বাচনের বার্তা অন্যদিকে দলীয় সংগঠনকে আরো মজবুত করার ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

Reply