ভোটে জিতল ‘NDA’, মানুষের মন জিতল তেজস্বী, শক্তি বাড়ালো বামেরা

শেষ হল বিহার ভোটের মহারণ। এই ভোট যুদ্ধের ফলাফল জানার জন্য গতকাল সকাল থেকে গোটা দেশের চোখ ছিল বিহারের দিকে। করোনা আবহে ভারতে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় নির্বাচন। তাই বিহারের মসনদ এবার কার দখলে যাবে, তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।

ভোট গণনার শেষে ফলাফল বলছে, মুখ্যমন্ত্রী পদে ফিরছেন নীতিশ কুমারই। করোনা আবহের মহাভোটে বিশেষ রদবদল হচ্ছে না বিহারের মসনদে। তবে নীতিশের এই প্রত্যাবর্তন যে খুব সহজে হয় নি, তা বলাই বাহুল্য। গতকাল সারাদিন ধরে ইভিএমের গুনতি জানান দিয়ে গেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে বিহারে। কখনো আরজেডি জোট শিবিরে শুরু হয়েছে উল্লাস, কখনো এনডিএ শিবির ভেসেছে বাঁধভাঙা উচ্ছাসে। তবে শেষ হাসি হাসলেন গত ১৫ বছর ধরে বিহারের মসনদে বসে আসা নীতিশই। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী বিহারে আরও একবার সরকার গড়তে চলেছে এনডিএ জোট।

বিহারের বিধানসভার মোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনে জয়লাভ করেছে ন্যাশানাল ডেমোক্রেটিক জোট। তবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সুদৃঢ় করে শক্তিশালী বিরোধী জোট তৈরি হল বিহারে। আরজেডি মহাজোট জয় পেল ১১০টি আসনে। আরজেডি জোটের হাত ধরে যে নতুন তরুণ নেতার মুখ উঠে এল বিহারের রাজনীতিতে, নিঃসন্দেহে তা পরবর্তীকালেও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে নরেন্দ্র মোদী কিংবা নীতিশ কুমারকে। লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদবের নাম যে এখন বিহার রাজনীতিতে অন্যতম চর্চার বিষয় তা নিয়ে দ্বিমত নেই কোথাও।

শুধু তেজস্বী যাদবই নন, বিহার বিধানসভা নির্বাচনের গতকালের ফলাফল বলছে রাজ্যে বহু দিন পর শক্তি বাড়িয়েছে বামেরাও। এবারে বিহারে মহাজোটের পক্ষ থেকে ২৯ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বামেরা। তাঁর মধ্যে জয় এসেছে ১৬ টিতে। ফলে বিহারের অর্ধেকের বেশি আসনেই জয়ী হয়েছে বাম শিবির।এবারে বাম শিবিরে ছিল তিন বাম দল সিপিআই(এম-এল), সিপিআই ও সিপিআইএম। বিহারে বৃহত্তম বাম দল হিসেবে উঠে এসেছে অতিবাম সংগঠন সিপিআই(এম-এল)। বহু দিন পর এই ফলাফলে ফের আশার আলো দেখেছে লাল শিবির। সবমিলিয়ে বলা যায়, রদবদল না হলেও বিহার বিধানসভা নির্বাচন নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের অনেক হিসেব বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে গেল।

Reply