‘সরকারের চামড়া মোটা হয়ে গেছে’, লোকাল ট্রেন চালানো নিয়ে বি’ স্ফো’ র’ ক দিলীপ ঘোষ

রাজ্যে লোকাল ট্রেন চালানোর উদ্যোগ আরো আগেই গ্রহণ করা উচিত ছিল রাজ্য সরকারের, এমনটাই দাবি করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। গতকালই রাজ্য সরকারের তরফে লোকাল ট্রেন চালানোর বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সে বিষয়ে মন্তব্য করতে সরকারের কাছে দিলীপ বাবুর প্রশ্ন, “এতদিন আলোচনায় বসেন নি কেন?”

এদিন চা চক্রে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখানেই লোকাল ট্রেন চালু করার ব্যাপারে ফের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। তিনি বলেন, “কেন্দ্র সরকার বারবার চিঠি লিখেছে, কিন্তু ওনাদের কানে জল ঢোকেনি। যখন মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে, পুলিশ লাঠি চালাচ্ছে, অপ্রিয় পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, তখন এই সরকার নড়ে চড়ে বসছে। এদের চামড়া মোটা হয়ে গেছে। কানে তালা লেগে গেছে। কিছু ভালো কথা শুনতে পায় না তাই।”

পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, অন্যান্য রাজ্যে লোকাল ট্রেন চলছে, এখানে মেট্রো চলছে, বাস, ট্রাম, অটো টোটো প্রভৃতি সব যানবাহনই চলছে। “তাতে যদি সংক্রমণ না হয়, লোকাল ট্রেনে সংক্রমণ হয়ে যাবে?”, প্রশ্ন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি আরো বলেন, “মানুষের উপার্জন বন্ধ হয়ে আছে আট মাস ধরে। তার কিছু alternative (বিকল্প) ব্যবস্থা করুন।” সরকারের জেদের জন্যেই আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, মানুষ রাস্তায় নামছে, দাবি দিলীপ ঘোষের।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল সন্ধ্যায় হাওড়া স্টেশনে প্রবল যাত্রী বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রশাসন। উত্তেজিত জনতার দাবি ছিল, লোকাল ট্রেন চালু করতে হবে অথবা রেলের যে স্পেশাল ট্রেন গুলি বর্তমানে চলছে, কিন্তু যাত্রী বহন করছে না, তাতে উঠতে দিতে হবে তাঁদের। এই নিয়ে হাওড়া স্টেশনের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত জনতার সংঘর্ষ হয়। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠি চার্জ করতেও বাধ্য হয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতে যাত্রী বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়েছিল একাধিক স্টেশন। গতকালের হাওড়া স্টেশনের ঘটনার পর সরকার নড়ে চড়ে বসে। তড়িঘড়ি এ ব্যাপারে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

Reply