অবিশ্বাস্য! বেলঘড়িয়ার দোকানে এক টাকা দিলেই মেলে মুচমুচে সিঙ্গারা!

এক টাকায় সিঙ্গারা! না, কোনো গল্প কথা কিংবা নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিচারণ নয়, ২০২০ সালে দাঁড়িয়ে খাস কলকাতা লাগোয়া অঞ্চলে এখনও এক টাকায় মেলে বাঙালির অতি প্রিয় সিঙ্গারা। বিশ্বাস না হলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন বেলঘড়িয়ার বিখ্যাত সেই তেলেভাজার দোকানে।

দিনের শেষে পকেটে মাত্র এক টাকা পড়ে থাকলে তা দিয়ে খুব বেশি হলে একটা লজেন্স কেনার কথা ভাবতে পারেন মানুষ। কিন্তু মুচমুচে মুখরোচক সিঙ্গারা? সত্যিই অবিশ্বাস্য। কিন্তু সেই অবিশ্বাস্য ব্যাপারই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বেলঘড়িয়ায়। বেলঘড়িয়ার নীলগঞ্জ রোডের “মা কালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার” নামক দোকানে পাওয়া যায় এক টাকার সিঙ্গারা। দামের জন্য তার স্বাদে কোনো খামতি হয় না বলেই দাবি স্থানীয়দের।

জানা গেছে, বেলঘড়িয়ার এই দোকান এক টাকার সিঙ্গারার জন্য এলাকায় বিশেষ জনপ্রিয়। প্রতিদিন বিকেল চারটে থেকে ছটার মধ্যে ভাজা হয় এই সিঙ্গারা। এই সময়ের মধ্যে দোকানের সামনে লাইন পড়ে যায়। ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খান বিক্রেতারা। লাইন দিয়ে অপেক্ষা করে একে একে সিঙ্গারা কিনে নিয়ে যান মানুষ। এ বিষয়ে এলাকায় প্রচলিত আছে “এক টাকার সিঙ্গারা, লাইন ছাড়লেই অধরা।”

তবে দোকানের সিঙ্গারা প্রেমীদের জন্য বরাদ্দ আছে বেশ কিছু নিয়ম কানুন। লাইন দিয়ে অপেক্ষা করেও সর্বোচ্চ দশটির বেশি সিঙ্গারা একজন ব্যক্তির ভাগ্যে জুটবে না। বস্তুত, ক্রেতাদের তুমুল চাহিদার কারণেই এই নিয়ম করা হয়। জানা গেছে, প্রথমে এই সিঙ্গারার দাম ছিল মাত্র কুড়ি পয়সা। দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে বাড়তে তা এখন অবশেষে ঠেকেছে এক টাকায়। বর্তমান যুগের তুলনায় এই দাম কিছুই না। তবে এক টাকার পর আর দাম বাড়ানো হয় নি দোকানের তরফ থেকে।

এক টাকা শুনে যাঁরা “মা কালী মিষ্টান্ন ভান্ডার”- এর সিঙ্গারার গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের জন্য স্থানীয় জনগণের মতামতই যথেষ্ট। সন্ধ্যাকালীন এই মুখরোচক খাবারটি যে অতি সুস্বাদু এলাকার মানুষদের মধ্যে তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

দুর্মূল্যের বাজারে এক টাকায় সিঙ্গারা বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দোকানের মালিক নিতাই পাল জানান ঐতিহ্য রক্ষা করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। মানুষ তাঁদের দোকানের সিঙ্গারা খেতে পছন্দ করেন, এটাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাই আর দেরি না করে আপনিও চলে যেতে পারেন বেলঘড়িয়ার “মা কালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার”- এ, এক টাকার সিঙ্গারার রসাস্বাদন করতে।

Reply