দিওয়ালিতে দুঃসংবাদ! প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে কোটি টাকার গয়না হারালেন শতাব্দী রায়

করোনা আবহে দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে আলোর উৎসব। তবে দীপাবলির আলোর রোশনাই অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল শতাব্দী রায়ের কাছে। উৎসবের আমেজের মাঝেই বড়সড় প্রতারণার শিকার হলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।

জানা গেছে, বিশাল অঙ্কের টাকা ও জিনিস খোয়া গেছে টলিউডের এককালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সাংসদ শতাব্দী রায়ের।বিশেষ সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক জায়গায় সোনার গয়না এবং টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন তিনি। পুরোনো সোনার গয়না দিয়ে হলমার্ক যুক্ত নতুন সোনা কেনা যাবে, এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। বলা বাহুল্য, এটা যে আসলে লোক ঠকানোর ফাঁদ, তা বুঝতে পারেননি তৃণমূল নেত্রী।

পুলিশ সূত্রের খবরে জানা গেছে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার সোনা ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদের কাছ থেকে। অবশ্য এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তির নাম সুকুমার সামন্ত। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর এলাকার বাসিন্দা।

প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গেছে, তৃণমূল নেত্রীর বিশ্বাস অর্জন করার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি বেশ কিছু কাগজপত্র দেখায় তাঁকে। কিন্তু পুলিশ জানিয়েছে সে সমস্ত কাগজপত্রই মিথ্যা। তবে শতাব্দী রায়ের হারানো সোনা এবং টাকাপয়সা এখনও উদ্ধার করা যায় নি। এ বিষয়ে পুলিশ সাধ্যমত তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বস্তুত দুদিন আগে শতাব্দী রায় গড়িয়াহাট থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সাংসদের সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ষড়যন্ত্র, বিশ্বাস ভঙ্গ এবং প্রতারণার ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। এমনকি এই ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

গোয়েন্দার গোপন সূত্রের খবর পেয়েই অভিযুক্ত সুকুমার সামন্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিন তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। আদালতের তরফ থেকে অভিযুক্তের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন আদালতে সরকারি আইনজীবী বলেন এই ঘটনার পিছনে আরো কে কে জড়িত, পুলিশ সে বিষয়ে তদন্ত করছে। এছাড়া, ধৃতের কাছ থেকে পাওয়া নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Reply