রামায়ণ-মহাভারতের গল্প শুনে ছেলেবেলা কেটেছে ওবামার

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সর্বজনবিদীত। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা জুড়ে রয়েছে ভারতবর্ষ। সুবিশাল এই দেশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ যেমন রয়েছে তাঁর, তেমনই বারাক ওবামার ছেলেবেলা কেটেছে ভারতীয় হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনী শুনে।

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা ভারত সম্পর্কে তাঁর জীবনের এই অজানা তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি নিজেই।

‘আ প্রমিসড ল্যান্ড’ বইয়ে এমনটাই লিখেছেন বারাক ওবামা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির ছোটবেলা কেটেছিল ইন্দোনেশিয়ায়।

তাইতো ছোটোবেলা থেকেই ভারতকে নিয়ে তাঁর আগ্রহ আবেগ ছিলো প্রচুর। ভারতকে নিয়ে তাঁর আগ্রহের কথা আত্মজীবনীতে লিখেছেন ওবামা। তাঁর কথায়, ”বিশাল আয়তন, বিশ্বের জনসংখ্যার ৬ ভাগের একভাগ, ২ হাজার জাতি, সাতশোর বেশি ভাষা বলা হয় ভারতে।” সে কারণেই সম্ভবত এই দেশকে তাঁর এতো ভালো লাগে বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর আত্নজীবনীতে ওবামা আরও লিখেছেন যে, ” ২০১০ সালের আগে তিনি কখনই ভারতে আসেননি। তবে দেশটি আমার কল্পনায় সর্বদা একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল।”

“সম্ভবত এই কারণেই আমি ইন্দোনেশিয়ায় আমার শৈশবের কিছুটা সময় রামায়ণ ও মহাভারতের গল্প শুনে কাটিয়েছি। বা পূর্বের দেশের ধর্মগু’ লি’ র’ প্রতি আমার আগ্রহের কারণে বা পাকিস্তানি এবং ভারতীয় কলেজ বন্ধুদের থাকার কারণে আমার এই দেশটি সম্পর্কে এত কৌতূহল।”

ওবামা আরও জানিয়েছেন, “তাঁর ভারতীয় এবং পাকিস্তানি বন্ধুরা তাঁকে ডাল এবং কিমা রান্না করাও শিখিয়েছিল। এছাড়াও তিনি শৈশবে বন্ধুদের সঙ্গে হলে গিয়ে বলিউডের সিনেমাও দেখতেন।”

ওবামা তাঁর ৭৬৮ পাতার আত্মজীবনীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচার, পাকিস্তানের আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনের হ’ ত্যা’ সহ একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে এতবড় আত্মজীবনি তিনি কম্পিউটারে টাইপ করেননি ওবামা। বরং লিখেছেন হলুদ প্যাডে পেন দিয়ে।
ওবামার জানিয়েছেন , তাঁর এই বই যুব প্রজন্মের জন্য। পরিশ্রম, সংকল্প ও ইচ্ছাশক্তি দিয়ে গোটা বিশ্বে পরিবর্তন আনার আমন্ত্রণ রয়েছে বইয়ে। তাঁদের সকলের সেরাটা উজাড় করে তৈরি হবে আমেরিকা।”

Reply