ব্রেকিং: শুভেন্দু ইস্যুতে চাপে তৃণমূল! ফের বৈঠক শুভেন্দু-সৌগতের

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। জোর লড়াই। কার্যত এই লড়াই তৃণমূল এবং বিজেপির কাছে প্রেস্টিজিয়াস ফাইট। ইতিমধ্যে বাংলা দখলে গোটা টিম নামিয়ে দিয়েছে অমিত শাহ। গোটা বাংলাকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে টিম অমিত শাহকে।

এই অবস্থায় কার্যত শুভেন্দু অধিকারী ইস্যুতে প্রবল চাপের মুখে শাসকদল তৃণমূল। কখনও নাম না করে দলেরই বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন তো আবার কখনও দলের প্রতীক, পোস্টার ছাড়াই মিটিং করছেন। শক্তি বোঝাতে বাংলা জুড়ে পড়ছে দাদার অনুগামীর নামে পোস্টার। যা যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলছে শাসকদলকে। আর তাই ভোটের আগে বরফ গলাতে তৎপরতা তৃণমূল স্তরে।

জানা যাচ্ছে, বরফ গলাতে ফের এবার শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। জানা যাচ্ছে, বরফ গলাতে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বর্ষীয়ান নেতা সৌগত রায়কে। জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে ফের একবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন সৌগত রায়।

জানা গিয়েছে, ভাইফোঁটার সন্ধ্যাবেলা নিউ টাউনের কাছে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক করছিলেন সৌগত রায়। সেখানে একাধিক বিষয় উঠে এসেছিল। জানা যায় ওই বৈঠকে দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা এবং যেভাবে প্রশান্ত কিশোর দল চালাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শুভেন্দু।

শুধু তাই নয়, সেই বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল সাংগঠনিক রদবদল। সাংগঠনিক রদবদল ঘটিয়ে তাঁকে আরও দায়িত্ব দিতে হবে। এমনটাই সৌগত রায়ের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। প্রতুত্তরে দলের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি শুভেন্দুকে জানাবেন বলে জানিয়েছিলেন সৌগত রায়। জানা যাচ্ছে, এই বিষয়েই সম্ভবত আলোচনা হতে পারে বলে খবর।

প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। তৃণমূল নয়, আমরা ‘দাদার অনুগামী’ নামে জেলায় জেলায় শুভেন্দুর ছবিসহ পোস্টার পড়ছে। তৃণমূলের ব্যানার ছাড়া একের পর এক সভা করছেন তিনি। মুখে আনছেন না দলনেত্রীর নাম। বক্তব্যে বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছেন অনেকটা দেরি করে ফেলেছে তাঁর দল তৃণমূল! কখনও শুভেন্দুর স্লোগানে ভারতমাতা জিন্দাবাদ স্লোগান। ফলে শুভেন্দু অধিকারীই এখন রাজ্য-রাজনীতিতে একেবারে নজরে।

তৃণমূলেই থাকছেন না বিজেপিতে যাবেন সেদিকেই তাকিয়ে বাংলার রাজনীতির কারবারিরা। এই অবস্থায় খোদ শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ি ছুটে গিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। দীর্ঘক্ষণ বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু তাতে যে বরফ গলেনি তা হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যুবরাজ।

আর এরপরেই শুভেন্দু যাতে দল না ছাড়েন, সেই চেষ্টা শুরু করেছে তৃণমূল শিবির। বরফ গলাতে দুই বর্ষীয়ান সাংসদকে শুভেন্দুর সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে শুভেন্দুর সঙ্গে এক সাংসদের বৈঠক হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

মঙ্গলবারও আরেক সাংসদের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, ভাইফোঁটার সন্ধেয় কলকাতায় রাজ্যের শাসক দলের এক বর্ষীয়ান নেতা পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পুরো বিষয়টিই ঘটেছে একেবারে গোপনে।

কেউ যাতে না জানতে পারে সেজন্যে কোনও নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই পরিচিত এক ব্যক্তির গাড়িতে শুভেন্দু কলকাতায় আসেন বলে জানা যাচ্ছে। এই বৈঠক ঘিরে চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল। সূত্রের দাবি, শুভেন্দুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার সেই বৈঠক হয়।

Reply