কোথাও একদিন, কোথাও আবার তিনদিন ধরে পালিত হয় জগধাত্রী পুজো, শাস্ত্রে কী বলা আছে,জানেন

জগদ্ধাত্রী পুজো করার প্রকৃত নিয়ম হল একদিনে। আর তা হল আজ অর্থাৎ নবমী তিথিতে। একদিনে না পারলে তখন তিন দিন ধরে হয় পুজো। বর্তমানে দীর্ঘ সময় ধরে আনন্দের জোয়ারে গা ভাসাতেই মানুষ এটিকে তিন দিনের পুজো করে নিয়েছে।

কিন্তু শাস্ত্র অনুসারে কী নিয়ম বর্ণিত রয়েছে? চৈতন্য সমসাময়িক স্মার্তপণ্ডিত রঘুনন্দন তাঁর ‘দুর্গোৎসতত্তম’ গ্রন্থে বলেছেন শুক্লাকার্তিকী নবমী তিথিতে প্রাতে সাত্ত্বিকী, মধ্যাহ্নে রাজসিকী ও অপরাহ্নে তামসিকী এই ত্রিকালীন পুজোই জগদ্ধাত্রী পুজো। পুজোয় বসতে হবে অরুণোদয় কালে। একই আসনে বসে সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত দফায় দফায় এবং নিরবচ্ছিন্ন ভাবে পুজো করে যেতে হবে। পুজো করতে হবে তিন বার তিন কালের। কারণ, জগদ্ধাত্রী পুজো ত্রৈকালীন পুজো।

বৃত্রাসুরের অত্যাচারে স্বর্গরাজ্য ও দেবতাদের বাঁচাতে দেবরাজ ইন্দ্র দেবী জগদ্ধাত্রীর প্রথম আরাধনা করেন। দেবী দুর্গার রূপভেদে প্রথম কার্ত্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা করে দেবশত্রু বৃত্রাসুরকে বিনাশ করেন দেবরাজ ইন্দ্র। সেটি ছিল একদিনের পুজো। শাস্ত্রে রয়েছে এই তিথিতে দেবী দুর্গার জগদ্ধাত্রী মূর্তিকে পুজো করলে ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ, এই চতুর্বর্গ লাভ হয়। জগদ্ধাত্রী তাই একদিনে নিষ্পাদ্য দুর্গাপুজো।

জগদ্ধাত্রী পুজোর বর্তমান যে জাঁকজমক তাঁর রূপকার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র। কিন্তু তিনিও একদিনে নিষ্পাদ্য দুর্গাপুজো হিসেবের স্বপ্নে দেখা জগদ্ধাত্রী মূর্তির পুজো আরম্ভ করেছিলেন।

অবশ্য ‘নিগমকল্পসার’ ও ‘মায়াতন্ত্র’ গ্রন্থে কার্ত্তিক মাসের শুক্লপক্ষের সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী এই তিন তিথিতে তিন পুজো এবং দশমীতে বিসর্জন করার কথা বলা হয়েছে— সপ্তম্যাদি নবম্যান্তু পূজাকালমিতীরিতম। ত্রিদিনে ত্রিবিধা পূজা দশম্যাঞ্চ বিসর্জয়েৎ।

তাই বর্তমানে দুই মতেই পুজো হয়। দু’টোই দুই শাস্ত্র মতে সিদ্ধ।

Reply