জানেন, দেবী জগধাত্রীর আরাধনা করা কতখানি মঙ্গলদায়ক? তবে কারা এই পুজো করতে পারবেন

দেবী জগদ্ধাত্রী হলেন মহাশক্তির আদিরূপ। ঋগ্বেদের একটি সুক্তে রয়েছে, ঋষি বশিষ্ঠ সূর্য ও বরুণের সঙ্গে আহ্বান করছেন দেবী অদিতিকে। অদিতি জ্যোতির্ময়ী ও অপ্রতিগতা। তিনি চিদরূপিনী। তিনি মা। তিনি অপ্রতিগতা অর্থাৎ, তাঁকে কেউ আঘাত করতে পারে না। এর অর্থ তিনি মহাশক্তি। অদিতি জ্যোতির্ময়ী অর্থে তিনি জগৎধারণ করে আছেন অর্থাৎ জগতের তিনি পালয়িত্রী বা স্থিতিকারিনী শক্তি। দেবী দুর্গাও তাই।

অদিতি জগৎ ধারণ করে রয়েছেন এই ভাবটিই পরবর্তীকালের জগদ্ধাত্রীরূপ কল্পনার মূল বলে মনে করা হলেও জগদ্ধাত্রী পুজো আসলে দুর্গা পুজোরই নামান্তর। জগদ্ধাত্রী হলেন দেবী দুর্গার অন্য এক রূপ।

অবশ্য, জগদ্ধাত্রী পুজো দুর্গা পুজোরই নামান্তর বলা হলেও দুটির মধ্যে মূল পার্থক্য হল, দুর্গাপুজো মহাপুজো এবং পুজোর আচার অনুষ্ঠান হয় বৈদিক ও পৌরাণিক মতে। কিন্তু জগদ্ধাত্রী পুজো সে অর্থে মহাপুজো বলা হয় না। কারণ, মহাপুজোর অঙ্গ দেবীর মহাস্নান এই পুজোতে হয় না। আর এই পুজোও হয় তন্ত্র মতে। এদিক থেকে বিচার করলে জগদ্ধাত্রী পুজো কিন্তু খুবই মহতী পুজো। যাঁরা দীক্ষিত কেবল তাঁরাই এই পুজো করার অধিকারী। এমনকি ভক্তিভরে ও নিষ্ঠা সহকারে এই পুজো করতে পারলে সিদ্ধিলাভও করা যায়।

দেবরাজ ইন্দ্র এই মতে প্রথম পুজো করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। রামচন্দ্র যেমন দুর্গাপুজো করে অসুররাজ রাবণকে বিনাশ করেছিলেন তেমনই দুর্গার অন্য এক রূপ জগদ্ধাত্রীর আরাধনা করে দেবরাজ ইন্দ্র অসুররাজ বৃত্রাসুরকে বিনাশ করেছিলেন।

Reply