পঞ্চানন বর্মার জন্মদিনেও রাজ্যে সরকারি ছুটি, বাঁকুড়ায় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বিরসা মুন্ডার পর এবার পঞ্চানন বর্মার জন্মদিনেও মিলবে রাজ্য সরকারি ছুটি। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার প্রশাসনিক সভা থেকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার বাঁকুড়ার রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই পঞ্চানন বর্মার জন্মদিনে রাজ্য সরকারি ছুটির কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিবলেন, “ইতিমধ্যেই নেতাজি, বীরসা মুন্ডা, পঞ্চানন বর্মা-সহ একাধিক ব্যক্তিত্বের নামে বিশ্ববিদ্যালয় করেছি।

পঞ্চানন বর্মার জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা করার পরিকল্পনা অনেকদিন ধরেই ছিল। এটা হয়ে গেলে খানিকটা নিশ্চিন্ত।” উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের প্রাণের মানুষ ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার মূর্তিতে মাল্যদান করেই চলতি বছরের অক্টোবর মাসে উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।

বিরসা মু্ন্ডার জন্মদিনে সোমবারই বাঁকুড়ার সভামঞ্চ থেকে রাজ্যে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হবে ১৫ নভেম্বর বিরসা মুন্ডার জন্মদিন ৷ সাঁওতাল বিদ্রোহের নায়ক বিরসা মুন্ডার সম্মানেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের শাসক দল এবং প্রধান বিরোধী দল, দুপক্ষেরই টার্গেট ২০২১। বাংলা বিজয় সম্পূর্ণ করতে বিজেপির প্রথম নজর আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক ৷ রাজ্যে জেলা সফরে এলেই দলিত, আদিবাসীদের ঘরে মধ্যাহ্নভোজ সারেন স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ বিজেপির এই স্ট্যাটেজিকেই ব্যর্থ করে আদিবাসী দলিতদের মন জয়ে বাঁকুড়ায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পরপর দু-দিন দু-দুটো সরকারি ছুটি ঘোষণা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাউরি কালচারাল বোর্ডের সদর দফতর করা হচ্ছে বাঁকুড়ায়। বাগদি বোর্ডের হেড কোয়ার্টার হচ্ছে বর্ধমানে। মতুয়াদের ঠাকুরনগরে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাউরি ও বাগদিরা পাবেন ৫ কোটি টাকা। মতুয়ারা পাবেন ১০ কোটি।

এদিন বন দফতরের কাজ নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “বনদফতরের কাজ ৮৭%-এর বেশি পড়ে আছে। হাতির হানায় কেউ মারা গেলে পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে।” সেইসঙ্গে, জাতি শংসাপত্রের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, কোনও জাতিগত শংসাপত্রের আবেদন ফেলে রাখা যাবে না। পরিবারের একজনের শংসাপত্র থাকলেই দিতে হবে।

প্রশাসনিক বৈঠকে অভাব-অভিযোগ শোনার মাঝেই মেজাজ হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আর কিছু চাইবেন না। সব সময় দাও আর দাও। টাকা কোথা থেকে আসবে। বাঁকুড়ার জন্য অনেক করেছি। সামনে ভোট আসছে। আগে ভাল করে ভোট করাও, তারপর বাকি সব হবে।”

Reply