গণেশের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিল এই ব্রহ্মকমল, কিন্তু আজ তা বিলুপ্তির পথে!

পৌরাণিক মতানুসারে, গণেশকে হাতির মাথা লাগানোর পরে, তাঁর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ব্রহ্মকমলের জলে স্নান করিয়ে। আর সেই কারণে এই ফুলকে ‘জীবনদায়ী’ পদ্মও বলা হয়। কিন্তু, বর্তমানে এই ফুল কিন্তু বিপন্ন তালিকায় নাম লিখিয়েছে। আর তা বিপন্ন হচ্ছে মানুষের হাতেই।

ভারতের উত্তরাখণ্ডের মূলত এই তিন অঞ্চলেই দেখা পাওয়া যায় ব্রহ্মকমলের। ৩০০০ থেকে ৪৮০০ মিটার উচ্চতায়, পাথরের ফাঁকে,সবুজ ঘাসের মাঝে দেখা যায় ব্রহ্মকমল। মূলত রূপকুণ্ডের পথেই দর্শন মেলে এই ফুলের। কিন্তু, এই অঞ্চলে এই ফুলের রক্ষণাবেক্ষণের কোনও ব্যবস্থাই নেই। পাশাপাশি, আঞ্চলিক মন্দিরগুলোয় পুজোর জন্য প্রভূত পরিমাণে ব্যবহৃত হয় এই ফুল।

এছাড়াও, ব্রহ্মকমলের ঔষধি গুণাগুণের ফলে, প্রচুর পরিমাণে তা কালো বাজারিও হয়ে থাকে। তৃতীয় কারণ, অবশ্যই আবহাওয়া। প্রতি নিয়ত বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর আবহাওয়া। যার ফলে কমে যাচ্ছে ফুলের সংখ্যা। ভারত ছাড়াও উত্তর মায়ানমার, দক্ষিণ-পশ্চিম চিনে পাওয়া যায় এই ফুল।

উত্তরাখণ্ডের পঞ্চ কেদার অঞ্চলে সমীক্ষা চালিয়ে, ‘নেচার গাইড’ নামে একটি বইয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, কেদারনাথ ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি, নন্দাদেবী বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ এবং অ্যসকট ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি- বর্তমানে ব্রহ্মকমলের জন্য সংরক্ষিত স্থান। যার ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্রহ্মকমল এগোচ্ছে বিলুপ্তির দিকে।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমীক্ষাটি করে ‘ওয়াল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া’। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মকমল বাঁচানোর জন্য পাহাড়ের আরও খানিক উপর দিকে, এই ফুলের চাষ করতে হবে। তবে পরিবেশ অনুকূল হওয়াটা খুবই জরুরি।

Reply