“সব সময় পাকামো!‌ এটা দাও, ওটা দাও”, মেজাজ হারালেন মমতা

বাউড়ি সম্প্রদায়ের জন্য উন্নয়ন পর্ষদ তৈরি করে দেওয়ার আবেদন শুনেই মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যায়ের বৈঠকে মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাগদি, বাউড়ি ও মতুয়া কালচারাল বোর্ডের হেড কোয়ার্টার স্থাপন থেকে শুরু করে তার দায়িত্বে কারা থাকবেন সে সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

তারপরেই ছাতরা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহদেব বাউড়ি বাউড়ি সম্প্রদায়ের জন্য উন্নয়ন পর্ষদ তৈরি করে দেওয়ার আবেদন করলেই রেগে যান মুখ্যমন্ত্রী।

তখন প্রায় চেয়ার থেকে উঠে পড়ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ধমকের সুরে তাঁকে বলতে শোনা যায়,”কী শুনলে এতক্ষণ?‌ কালচারাল বোর্ড আর উন্নয়ন পর্ষদ আমরা একই অর্থে ব্যবহার করি।”

তিনি আরও বলেন,”আর কিছু চাইবে না। অনেক দিয়ে দিয়েছি। আগে কিছুই ছিল না। সব করে দেওয়া হচ্ছে ধীরে ধীরে। এটা তো বুঝতে হবে যে সরকারের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। প্রতিটা পয়সা সাধারণ মানুষের।

সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে গেল করোনার জন্য। কেন্দ্র কিন্তু টাকা দেয়নি। অন্য জায়গায় সরকারি কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। আমরা ১ তারিখের মধ্যে বেতন দিচ্ছি, পেনশন দিচ্ছি”।

সহদেব বাউড়ি উন্নয়ণ পর্ষদ তৈরি করার আগে তফসিলি বন্ধু প্রকল্পে বিধবাদের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্যও আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রীকে। তখন মুখ্যমন্ত্রী প্রায় রেগে গিয়ে উত্তর দেন,”সব সময় পাকামো!‌ এটা দাও, ওটা দাও

সারাক্ষণ দাও দাও দাও!‌ টাকাটা কোথা থেকে আসবে একবার ভেবেছ?‌ শুধু চাইলেই হয় না। আমি যা দিয়েছি তার আগে কেউ এক শতাংশও করতে পারেনি। সারা পৃথিবীতে সামাজিক কাজে এক নম্বরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ১০ কোটি মানুষের মধ্যে ৯ কোটি মানুষ কিছু না কিছু পরিষেবা পেয়েছে।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রশাসনিক বৈঠকের এদিন বলা হয় যে,বাঁকুড়ায় বাউরি কালচারাল বোর্ডের সদর দফতর গঠন করা হবে। বাগদি বোর্ডের হেড কোয়ার্টার স্থাপন করা হবে বর্ধমানে।

সম্প্রদায়ের দফতর রয়েছে ঠাকুরনগরে। ও বাগদিরা ৫ কোটি টাকা করে পাবেন নিজেদের সমাজকে উন্নত করার জন্য। অন্যদিকে মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ কে দেওয়া হবে ১০ কোটি টাকা। এদিন এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Reply