“আমি কাকে ভালোবাসবো সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার” ‘লাভ জেহাদ’ নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ নুসরাতের

নুসরাত জাহান কে চেনেন না এমন মানুষ পশ্চিমবঙ্গের নেই বললেই চলে।টলিউডের অভিনেত্রী দের মধ্যে এক শক্ত জায়গা দখল করে নিয়েছেন তিনি। একের পর এক হিট সিনেমার দর্শকদের করেছেন মুগ্ধ।

বর্তমানে তিনি বাংলার শাসক দলের দায়িত্বপূর্ণ সাংসদ।তরুণ এই সংসদকে নিয়ে যথেষ্ট চর্চা হয়েছে ভারতবর্ষে।রাজনৈতিক জগত এবং অভিনয় জগৎ থেকে কিভাবে তাল মিলিয়ে চলতে হয় তা খুব ভালভাবেই বুঝে গেছেন তিনি।

শাসকদলের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করার পরে পরেই জনগণের সাথে তিনি গেছে মিশে।নিজের অভিনয় জগতের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও তিনি দক্ষ।

অভিনয় এবং তার সাথে সাথে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য কাজ করতেও ভালোবাসেন নুসরাত। কিছু বছর আগে এই রাজনৈতিক মহলে পা রাখলেও নিজের দক্ষতা ও ক্ষমতার জোরে তিনি রাজনৈতিক তৃতীয় এক জায়গা অধিকার করে নিয়েছেন।

বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চিত নুসরাত জাহান। পাক স্টিট ধ*র্ষ*ণকা’ণ্ডে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন জড়িত, এবং সে তার হবু স্বামী ও ছিল। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভেঙে পড়ে নুসরাত। কিন্তু মনে জোর এনে আবার অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন তিনি। দর্শকদের মনে বানিয়ে নেন এক শক্ত জায়গা।

এর পরেই তার জীবনে আসেন নিখিল জৈন।ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিখিল জৈন সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।বিয়ের সাজে সিঁথিতে সিঁদুর হাতে শাঁখা পলা দেখেই শুরু হয় ধর্মীয় গোঁড়া মানসিকতার মানুষদের তীক্ষ্ণ বিদ্রুপ।

একদিকে কিছু মানুষ বলেন তিনি মুসলিম হয়ে হাতের শাঁখা সিঁদুর পড়বেন কেন? অন্যদিকে আরেকদলের মতে তিনি হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করে নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেনি কেন? তবে বিতর্ককে পাত্তা না দিয়েই এগিয়ে চলছেন তিনি।

এর আগেও নুসরাত জাহান কাউকে পরোয়া না করে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছিলেন অভিযোগের। সম্প্রতি বিজেপির নতুন স্লোগান “লাভ জিহাদ”।

তাই নিয়ে সারা ভারতে উঠেছে মতামত এর ঝড়।লাভ জি’হা’দ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজ্য। 20 করে বিজেপি শাসিত বেশ কয়েকটি রাজ্যের লাগু করা হয়েছে বিশেষ আইন। রবিবার লাভ জি’হাদ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখালেন বাংলার অভিনেত্রী নুসরাত জাহান।

এদিন কলকাতার এক জগদ্ধাত্রী মন্দির উদ্বোধন করতে এসে অভিনেত্রী জানান যে লাভ ও জি’হা’দ কখনো এক হতে পারে না। তিনি কোন হিন্দু অনুষ্ঠান এ গেলেই সমালোচনা শুরু হয়।

কোন মানুষ কাকে ভালোবাসবে সেটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।এই প্রসঙ্গে তিনি বিজেপিকে পরামর্শ দেন যে তাঁরা যেন ভালোবাসা আগে নিজেরা বোঝেন, তাদের ভালবাসতে শেখা উচিত।

এর আগেও দেখা গেছে নুসরাত জাহানের সক্রিয়তা কে নিয়ে কটাক্ষ করেছিল বিভিন্ন সমালোচকরা। কিন্তু নুসরাত পাত্তা দেননি কিছুই।অষ্টমীর দিন অঞ্জলি দেওয়ায় ছাড়া অন্যান্য রীতির সাথে ও মাজারে গিয়ে নামাজ পড়তে ভোলেননি তিনি। এই ভাবেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্যের দিকে ।

এদিন বিজিবিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন তিনি এক বাঙালি মুসলিম পরিবারের সন্তান। সর্বপ্রথম তার পরিচয় তিনি একজন বাঙালি। ধর্মনিরপেক্ষ ভাবে মানুষকে ভালবাসতে জানেন । সুতরাং তার কার্যকলাপ নিয়ে দয়া করে যেন কেউ প্রশ্ন না করেন

Reply