বিশ্বের সেরা ১০০জন ক্ষমতাবান মহিলাদের মধ্যে স্থান পেল ভারতের উত্তরাখণ্ডের কিশোরী

বয়স কেবল ১৩ বছর, আর এই বয়সেই বিবিসির ২০২০-র সারা বিশ্বব্যপী প্রভাবশালী মহিলাদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে উত্তরাখণ্ডের জলবায়ুভিত্তিক কর্মী ঋধিমা পান্ডে। তবে কেবল রিধিমাই নয়, এই ১০০ জনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন আরও তিনজন মহীয়সী- মানসী যোশী, ইসাইবাণী এবং ৮২ বছরের বিলকিস বানো।

বিবিসির ওয়েবসাইট অনুসারে, এই তালিকায় সেইসব মহিলাদের স্থান করে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা এমন এক অশান্ত সময়েও সমাজের বুকে বিভিন্ন পরিবর্তনের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং একটা দৃষ্টান্তমুলক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। বিবিসি-র তরফে রিধিমাকে বর্ণনা করা হয়েছে এইভাবে, ‘ঋধিমা একজন জলবায়ু কর্মী, যিনি মাত্র নয় বছর বয়সে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে জলবায়ু পরিবর্তন নিরসনে নিষ্ক্রিয়তার প্রতিক্রিয়ায় একটি পিটিশন ফাইল করেছিলেন।’ ঋধিমা, গ্রেটা থুনবার্গ এবং সারা বিশ্বের আরও ১৪ জন শিশুর তরফে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কাছে পরিবেশ বাঁচানোর দাবিতে পিটিশন দায়ের করেছিল।

এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় বিবিসি-কে ঋধিমা জানিয়েছেন, ‘আমি সম্মানিত। আগামী প্রজন্মের পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ব নেতাদের সম্মিলিতভাবে একত্রিত হওয়া উচিত। বিশ্ব নাগরিক হিসাবে আমাদের উচিত সরকারকে অনুরোধ করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ করা এবং সুরক্ষিত রাখতে তাঁদের একটা পরিবর্তন করতে বাধ্য করা।’ ঋধিমা আরও বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাকে পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণের বিরুদ্ধে কাজ করতে এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও উৎসাহিত করবে। আর এই সমস্যা আজকের বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা এবং আগামী দিনেও মানুষকে এর মুখোমুখি হতে হবে।’

কী কী ক্ষেত্রে কাজ করেছেন ঋধিমা?- ‘গ্রেটা থানবার্গ অব ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত, ঋধিমা পান্ডে দেরাদুন বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য উত্তরাখণ্ড সরকারের ১০ হাজারটি গাছ কেটে ফেলার বিরোধিতা করার জন্য ‘সেভ থানো ফরেস্ট’ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ঋধিমা বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন এবং তাঁর বয়সী অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করছেন। এইভাবেই ঋধিমা তাঁর এবং তাঁর সমবয়স্কদের ভবিষ্যত রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন।

হরিদ্বার নিবাসী ঋধিমা আরও বলেন, এই স্বীকৃতি অন্যান্য যুবাদেরও অনপ্রেরণা যোগাবে। বিশেষত ভারতের সকল মেয়েরা তাদের অঞ্চলে পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ নিয়ে লড়াই করার অনুপ্রেরণা যোগাবে। ঋধিমার বিশ্বাস, আগামী দিনে ভারত থেকে আরও অনেক মহিলা বিবিসির এই তালিকায় স্থান পাবেন।

Reply