“সাপুড়েকে সাপের ছোবলেই মরতে হয়, তৃণমূল ধুলিসাৎ হবে”, শুভেন্দুর পদত্যাগ প্রসঙ্গে মন্তব্য অধীরের

শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পর বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এসেছে। শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নবান্নে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন শুভেন্দু অধিকারী।

ঠিক তার পর থেকেই শাসক-বিরোধী থেকে শুরু করে প্রতিটি দলেই চলছে তুমুল সমালোচনা। এবার শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সাপ এবং সাপুড়ে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দুর মন্ত্রিত্ব থেকে সরে আসার বিষয়টি শাসক দলের কাছে এক বড়সড় ধাক্কা। নবান্নে দুপুরের দিকে শুভেন্দু অধিকারীর ইস্তফাপত্র পেশ করার পর বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী সেই চিঠি পান।

এ বিষয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,”তৃণমূলের অন্তর্জলি যাত্রা শুরু হল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাপুড়ের মতো বিজেপিকে বাংলায় ডেকে এনেছিলেন।

‘বিজেপি বহিরাগত’, এ কথা ওঁর মুখে মানায় না। ঠিক যেমন সাপুড়েকে সাপের ছোবলে মরতে হয়, তেমনই তৃণমূলের ললাটে লেখা রয়েছে।”

বহরমপুরের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী আরো বলেন,”শুভেন্দুকে তৃণমূল কখনও মর্যাদা দেয়নি। স্রেফ কাজ করিয়ে নিয়েছে। আমি নন্দীগ্রামে গিয়ে দেখেছি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুভেন্দু আন্দোলন করেছিলেন।”

শুভেন্দু অধিকারী না থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন অধীর। তিনি বলেন,”শুভেন্দু কোথায় যাবেন সেটা তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু তৃণমূল যে ধুলিসাৎ হয়ে যাবে সন্দেহ নেই। আর বাম-কংগ্রেসের এই জোট থাকবে এবং আরও মজবুত ও শক্তিশালী হবে।”

পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী অধীরের মন্তব্যকে সমর্থন করে বলেন,”এ তো হওয়ারই ছিল। বোঝাই যাচ্ছে তৃণমূল ক্রমশ কমজোরি হচ্ছে। তৃণমূল থেকে লোক ভাঙিয়ে নিয়ে গিয়ে বিজেপি যে খুব সুবিধা করতে পারবে, তেমনটা নয়। জনগণ সব বুঝছেন।

বিজেপি-তৃণমূলের এই আঁতাঁতের মাঝে তাঁদের কাছে একমাত্র বিকল্প বামেরাই।” মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে সুজন চক্রবর্তী বলেন,”ভাঙাগড়ার রাজনীতি এখানে উনিই এনেছিলেন।

আগে তৃণমূল বাম, কংগ্রেসের মতো দল থেকে নেতা, কর্মীদের ভাঙাত। এখন নিজের ঘর ভাঙছে। এখন তিনি বুঝছেন ভাঙন কেমন। তবে এসব ভাঙাগড়ার খেলা বিজেপি আর তৃণমূলই খেলুক।”

Reply