রাজনীতির কথায় চুপ! নিজের কাঁধে খোল ঝুলিয়ে ‘হরে কৃষ্ণ’ বোল তুললেন শুভেন্দু

সারা রাজ্য এখন তাকিয়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। আগামী দিনে শুভেন্দু অধিকারীর পথ পরিকল্পনা কি সে দিকেই নজর সকলের। এরই মধ্যে সোমবার মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর প্রথম নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে উপস্থিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী।

রাস উপলক্ষ্যে আজ সোমবার নন্দীগ্রামে যান শুভেন্দু। গত কয়েকদিনের মতো আজ সকলে তাকিয়েছিলেন হয়তো নন্দীগ্রাম যেহেতু তার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র সেখান থেকে কোনো রাজনীতির কথা বলতে পারেন শুভেন্দু। কিন্তু সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রামে রাস উৎসবের মঞ্চে শোনা গেল ধর্মীয় কথা। বক্তব্যের মধ্যে নেই রাজনীতির বিন্দুমাত্র ছোঁয়াটুকুও।

বক্তব্য শেষে নিজের কাঁধে খোল ঝুলিয়ে কীর্তনের সুরে গলাও মেলালেন সেদিনের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কান্ডারী তথা বর্তমান নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। গত রবিবার মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর মহিষাদলে প্রথম সভা অনুষ্ঠানেও রাজনীতির বিষয়ে কার্যত চুপ ছিলেন শুভেন্দু।

রাজনৈতিক কথাবার্তার পরিবর্তে শুভেন্দুর গলায় শোনা গিয়েছিল জনতার পাশে থাকার বার্তা। আর সেই একই বার্তাই শোনা গেল সোমবার নন্দীগ্রামের রাস উৎসবের মঞ্চ থেকে। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর এই প্রথম নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কর্মসূচি। যা নিয়ে সকাল থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা।

এদিন প্রথমে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া থেকে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত শুভেন্দু অনুগামীদের তরফ থেকে বিরাট আকারের বাইক মিছিল করা হয়।

যার শুরুতেই ছিলেন সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তিনি নন্দীগ্রামের প্রাচীন রাস উৎসবে উপস্থিত হন। সেখানেও কয়েকশো মানুষের জমায়েত। রাধা- কৃষ্ণের মূর্তিতে প্রণাম সারার পর তিনি রাস উৎসবের মূল মঞ্চে প্রবেশ করেন। সেখানেই স্বল্প বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু।

ধর্মীয় কথা বলার পর তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “নন্দীগ্রামে এমন কোন উৎসব নেই যেখানে আমি থাকি না। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান, খেলা- মেলা, সবেই আমি থেকেছি। কিছুদিন আগেই আমি মহাষ্টমীতে গোকুলনগরে পুষ্পাঞ্জলী দিয়েছি। দীপাবলিতেও এসেছি এক অনুষ্ঠানে।

মহরম থেকে ঈদ সব অনুষ্ঠানেই আমি থাকি। আপনাদের সেবক শুভেন্দু অধিকারী বরাবর আপনাদের সঙ্গে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।” এর পরেই শুভেন্দুর গলায় শোনা যায় ‘হরে কৃষ্ণ’ বোল।

নিজের কাঁধে খোল ঝুলিয়ে সূচনা করেন নগর কীর্তনের। সব মিলিয়ে বলা চলে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কার্যত রাজনীতির বিষয় নিয়ে চুপ শুভেন্দু। নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে কবে মুখ খুলবেন শুভেন্দু সেদিকেই এখন নজর সকলের।

Reply