বিশেষ অধিবেশনে মোদী বাতিল করুক আইন, দিল্লি ঘেরাও থাকবেই: কৃষক হুঙ্কার

আন্দোলনের প্রবল চাপের মুখে মোদী সরকার। বিতর্কিত কৃষি আইন অবিলন্বে পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন ডেকে বাতিল করুক মোদী সরকার, না হলে দিল্লি ঘেরাও আরও জোরদার হবে। এমনই হুঁশিয়ারি সারা ভারত কৃষক সভা নেতৃত্বে চলা ৩৫টি কৃষক সংগঠনের।

কৃষকদের দাবি, বিজেপির সরকার যে কৃষি আইন এনেছে তা সর্বনাশ ঘটাবে দেশের কৃষিক্ষেত্রে। কৃষকরা পুরো কর্পোরেট দাস হয়ে পড়বেন। আইনটি বাতিল করার দাবিতে বিক্ষোভ তুঙ্গে। বিক্ষোভের অন্যতম নেতৃত্বে বামপন্থী কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভা। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ হান্নান মোল্লা জানিয়েছেন, নতুন তিন কৃষি আইন আসলে কৃষকদের জন্য মৃত্যুর পরোয়ানা। এটাই জারি করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। অবিলম্বে এই আইন প্রত্যাহার করতে হবে কেন্দ্র সরকারকে। একই সঙ্গে নতুন বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছেন।

অল ইন্ডিয়া কিসান সংঘর্ষ সমিতি যৌথ মঞ্চ গড়েই এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন ব্যাপকতর হয়েছে। সড়ক পথে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের সঙ্গে দিল্লি এক প্রকার বিচ্ছিন্ন।

কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দিল্লি ঘেরাও অবস্থান থেকে কোনওভাবেই পিছু হটার পথে যেতে নারাজ প্রায় ১২ লক্ষ কৃষক। প্রতিদিনই এই বিক্ষোভে অংশ গ্রহণকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার কৃষক নেতা গুরনাম সিং চান্দোনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি আমাদের দাবি না মানে তাহলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

এই পদক্ষেপ কি সেটি স্পষ্ট করেননি কৃষক নেতৃত্বরা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দিল্লিতে খাদ্য শস্য, সবজি ও দুধের যে বিপুল সরবরাহ পাঞ্জাব, হরিনাথ, উত্তর প্রদেশ থেকে আসে সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে রাজধানীতে খাদ্য সংকট আরও বাড়বে। ইতিমধ্যে দিল্লির সঙ্গে তিন প্রতিবেশী রাজ্যের প্রায় সব চেক পোস্ট অবরুদ্ধ।

দিল্লির বৃহত্তম কৃষক বিদ্রোহের রেশ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিকস্তরে। কানাডা সরকার এই বিক্ষোভ কে সমর্থন করে বার্তা দেওয়ায় বিতর্ক চরমে। বিভিন্ন দেশে এই বিক্ষোভের রেশ ছড়িয়েছে।

Reply