দিল্লি ঘিরে কৃষক বিক্ষোভে এবার দক্ষিণের স্রোত, চেন্নাই উত্তপ্ত

কৃষক বিক্ষোভে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা রাজধানী দিল্লির দিকে এবার দক্ষিণের কৃষক স্রোত ঢুকবে।তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতেও এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। চেন্নাইতে কৃষি আইনের প্রবল প্রতিবাদে সামিল হয় বিরোধী দল ডিএমকে ও সিপিআইএম, সিপিআই। আন্দোলনে দক্ষিণের অন্যান্য রাজ্যগুলির কৃষক সংগঠনের শাখা সমর্থন জানিয়েছে।

কৃষক সভার সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্র থেকে বিরাট সংখ্যক কৃষক দিল্লির দিকে আসতে শুরু করবেন। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দেওয়া কৃষক লং মার্চের মতোই দিল্লি পর্যন্ত মিছিল হবে।

দিল্লি পৌঁছে বিক্ষোভে অংশ নিতে চলেছেন কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরলের কৃষকরা। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে কৃষকরা দিল্লিতে অবস্থান বিক্ষোভ করেন। তামিলনাড়ুর কৃষকদের সেই বিক্ষোভ সরকার আমল দেয়নি। এবার কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে উত্তর পশ্চিম ভারতের কৃষকদের বিপুল জমায়েতে দক্ষিণ ভারতের কৃষকরাও তৈরি।

ইতিমধ্যেই এআইএডিএমকে শাসিত তামিলনাডু ও পুদুচেরিতে কৃষক বিক্ষোভে উত্তপ্ত। চেন্নাইতে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে বিরোধী ডিএমকে কর্মীদের বিক্ষিপ্ত সং’ ঘ’ র্ষ হয়। পাশাপাশি সিপিআইএম ও সিপিআই সমর্থক ও বামপন্থী শ্রমিক কৃষক ও বিভিন্ন গণসংগঠন বিক্ষোভে অংশ নেয়।

তামিলনাডুতে ডিএমকে ও বামেরা একই জোটে আছে। সেই সুবাদে গত লোকসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য পায় দুটি দলই। বিজেপি ঘনিষ্ঠ শাসক এআইএডিএমকে ভোটে ধস নামে। এই রাজ্য থেকেই ৪ জন বাম সাংসদ গিয়েছেন সংসদে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই জোট ক্ষমতায় আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি তে কৃষক বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে সমাবেশ করে বাম শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ। সমাবেশ থেকে দিল্লি ঘিরে রাখা কৃষকদের প্রতি শুভেচ্ছা দেওয়া হয়।

কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বে চলা এনডিএ সরকারের কৃষি আইনের বিরোধিতায় অবরুদ্ধ রাজধানী দিল্লি।
পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশের কৃষকদের
আন্দোলনের প্রবল চাপে পড়েছে মোদী সরকার। বিতর্কিত কৃষি আইন অবিলন্বে পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন ডেকে বাতিল করুক মোদী সরকার, না হলে দিল্লি ঘেরাও আরও জোরদার হবে। এমনই হুঁশিয়ারি সারা ভারত কৃষক সভা নেতৃত্বে চলা ৩৫টি কৃষক সংগঠনের।

অল ইন্ডিয়া কিসান সংঘর্ষ সমিতি যৌথ মঞ্চ গড়েই এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন ব্যাপকতর হয়েছে। সড়ক পথে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের সঙ্গে দিল্লি এক প্রকার বিচ্ছিন্ন। সরকারের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দিল্লি ঘেরাও অবস্থান সরতে নারাজ প্রায় ১২ লক্ষ কৃষক। প্রতিদিনই এই বিক্ষোভে অংশ গ্রহণকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার কৃষক নেতা গুরনাম সিং চান্দোনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি আমাদের দাবি না মানে তাহলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

কৃষকদের দাবি, বিজেপির সরকার যে কৃষি আইন এনেছে তা সর্বনাশ ঘটাবে দেশের কৃষিক্ষেত্রে। কৃষকরা পুরো কর্পোরেট দাস হয়ে পড়বেন। আইনটি বাতিল করার দাবিতে বিক্ষোভ তুঙ্গে। বিক্ষোভের অন্যতম নেতৃত্বে বামপন্থী কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভা। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ হান্নান মোল্লা জানিয়েছেন, নতুন তিন কৃষি আইন আসলে কৃষকদের জন্য মৃত্যুর পরোয়ানা। এটাই জারি করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। অবিলম্বে এই আইন প্রত্যাহার করতে হবে কেন্দ্র সরকারকে। একই সঙ্গে নতুন বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছেন।

দিল্লির বৃহত্তম কৃষক বিদ্রোহের রেশ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিকস্তরে। কানাডা সরকার এই বিক্ষোভকে সমর্থন করে বার্তা দেওয়ায় বিতর্ক চরমে। বিভিন্ন দেশে এই বিক্ষোভের রেশ ছড়িয়েছে।

Reply