কেন্দ্রের দেওয়া খাবার ফিরিয়ে গুরুদোয়ারা থেকে খাবার আনালেন কৃষকরা

রাজধানীর রাজপথ উত্তাল। কৃষক বিক্ষোভে সামিল প্রায় গোটা দেশ। কেন্দ্রের সরকার কার্যত অস্বস্তিতে। সর্বতোভাবে সরকারের বিরোধিতায় নেমেছেন কৃষকরা। বৃহস্পতিবার সেই বিরোধিতার জ্বলন্ত ছবি দেখা গেল দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে। কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন কৃষকদের প্রতিনিধিরা। সেখানেই ফ্রেম বন্দী হল এই ছবি।

বৃহস্পতিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ গ্রহণ করেছিলেন কৃষকদের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে ছিলেন কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। যেখানে কেন্দ্রের তরফে দুপুরের খাবার দেওয়া হয়েছিল কৃষক প্রতিনিধিদের। সরাসরি সেই খাবার খেতে মানা করে দেন তাঁরা। কেন্দ্রের দেওয়া খাবার ফিরিয়ে নিজেদের সঙ্গে করে নিয়ে আসা খাবার খেলেন তাঁরা।

স্থানীয় গুরুদোয়ারাতে প্রস্তুত খাবার একটি সাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হয়। সেই খাবারই খান তাঁরা। নিজেদের আনা খাবার খাওয়ার ছবি সম্প্রচারিত হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে সেই ছবি। শুধু দুপুরের খাবারই নয়, খাবার পরে চা ও স্ন্যাকসও নিজেরাই আনিয়ে খান প্রতিনিধিরা।

কৃষকদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সমাজকর্মী কবিতা কুরুগন্তি। এই দলে তিনিই একমাত্র মহিলা প্রতিনিধি। তিনি আশা নামে একটি এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতাও।

নতুন কৃষি আইন কৃষকদের সর্বনাশ করবে। এই আইন বাতিলের দাবিতে সারা ভারত কৃষকসভা সহ ৩২টি কৃষক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ সারা ভারত কিসান সংঘর্ষ সমিতি দিল্লি ঘেরাও করে রেখেছে। অন্তত ১২ লক্ষ কৃষক এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা ভেস্তে যেতেই কৃষক সংগছনগুলির হুমকি আইন বাতিল না করলে অনির্দিষ্টকাল ঘেরাও করে রাখা হবে রাজধানী। পাঞ্জাব, হরিয়ানার, উত্তর প্রদেশের কৃষকদের সমর্থনে উত্তরাখণ্ড, তামিলনাডু, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, পুডুচেরি, কেরলে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভে সামিল সিপিআইএম ও সিপিআই, সিপিআই(এম-এল) দলের কৃষক সংগঠনগুলি।

এদিকে একের পর এক বৈঠক নিষ্ফলা। কেন্দ্রের কৃষি বিলের বিরোধিতায় যে উত্তাল ঝড় উঠেছে গো বলয়ে, তা থামাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে।

Reply