“দেশের স্বার্থে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন বিল আনতেই হবে” ফের জল্পনা উসকে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের সমক্ষে এই মুহূর্তে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী ভারত বর্ষ। এই মুহূর্তে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৩৩ কোটি। পরিবার নিয়ন্ত্রনে সংক্রান্ত আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত সংখ্যাটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হয়তো বা বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ চীনকেও ছাপিয়ে যেতে পারে ভারত। উপত্যকা অঞ্চল থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, রাম মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু করার পর বিজেপি সমর্থকরা এবার দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল আনার পক্ষেই সওয়াল করছেন।

এ সম্পর্কে বিজেপিরই এক আইনজীবী নেতা অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় কিছুদিন আগেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নিয়মাবলী চালু করার উদ্দেশ্যে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করেন।

তবে দিল্লি হাইকোর্ট অবশ্য তার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ওই বিজেপি নেতা তথা আইনজীবীর আবেদন ছিল, এদেশে অবিলম্বে দুই সন্তান নীতি চালু করার নির্দেশ দিক হাইকোর্ট।

তাঁর অনুরোধ ছিল, আদালত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে দুই সন্তান নীতির মতো নির্দেশিকা বেঁধে দিক। কিন্তু দিল্লি হাই কোর্ট ওই বিজেপি নেতার আবেদন খারিজ করে দেয়।

তাতে দমে না গিয়ে অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টে। তাঁর করা আবেদনের ভিত্তিতেই কেন্দ্রের মত জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত।

গত ৭ ডিসেম্বর নিজেদের মত জানিয়ে আদালতে একটি হলফনামা দাখিল করে মোদি সরকার। কেন্দ্রের হলফানামায় বলা হয়,”ভারতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি পুরোপুরি ঐচ্ছিক।

যা কিনা প্রত্যেক দম্পতিকে অধিকার দেয়, তাদের পছন্দমতো পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং পরিবার নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি বেছে নেওয়ার। এটা সম্পূর্ণই তাঁদের উপর নির্ভর করে, এবং কাউকেই বাধ্য করা হয় না। আর কেন্দ্র পরিবার নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলী চাপিয়ে দেওয়ার বিপক্ষে।”

আদালতে এই হলফনামার পর মনে হয়েছিল, কেন্দ্র হয়তো এখনই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল আনতে চাইছে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় পশুপালন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের মন্তব্য ফের জল্পনা বাড়িয়ে দিল।

তিনি বলছেন,”এটাকে ধর্ম বা ভোটব্যাংকের রাজনীতির সঙ্গে ঘুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। দেশের সার্বিক উন্নতি এবং সামাজিক সংহতির জন্যই কড়া জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োজন।” গিরিরাজ বলছেন, প্রয়োজনে সংসদে এটা নিয়ে আলোচনা হোক।

Reply