মমতার কাঁটা “মিম” বাংলার সংখ্যালঘু ভোট কাটতে ঘর সাজাচ্ছেন ওয়াইসি

মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতেও আক্ষেপ ফুটে উঠেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। জলপাইগুড়িতে একটিও আসন পান নি তিনি, তাই দলের কর্মীদের সামনে পেয়ে সেদিন মমতার প্রশ্ন করেন, ‘কী অন্যায় করেছিলাম যে উত্তরবঙ্গ থেকে লোকসভায় একটাও সিট আমি পেলাম না?’

তারপর তিনি ‘মিম’কে বিজেপির এজেন্ট দাবি করেন যে ভোট বিক্রি করে টাকার বিনিময়ে। তৃণমূল নেত্রীর এই বক্তব্যের পরই এবার তাকে পালটা আক্রমণ শানালেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন কবে হবে তা এখনও সরকারি ভাবে ঘোষণা হয়নি। ইতিমধ্যেই দুই দল তাদের মত করে জনসভা করতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও বাংলায় নতুন সম্ভাবনা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি’র দল ‘মিম’-এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠে বলেন,

‘বিজেপি বাংলায় সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসাতে হায়দ্রাবাদ থেকে একটা পার্টিকে ডেকে এনেছে। বিজেপি ওদের টাকা দেয়, আর ওরা সব জায়গায় ভোট ভাগাভাগী করে । এই বিষয়টা বিহার নির্বাচনেই ল প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। হিন্দু ভোট নেবে বিজেপি আর মুসলিম ভোট ওরা নেবে, তা আমি কি কাঁচকলা নেব?’

পালটা জবাবে ওয়েইসি বলেন , ‘এখনও এমন একটাও মানুষ জন্মায়নি যে আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকে টাকা দিয়ে কিনতে পারে। মমতা দি’র অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি নিজের ঘর সামলানোর আগে অস্থির হয়ে পড়েছেন কারন তাঁর দল ভেঙে নেতারা তো বিজেপিতে যোগ দিতে চলে যাচ্ছে। আর উনি এসব কথা বলে বিহারের মানুষকে অপমান করছেন।’

বিহার নির্বাচনে বাংলা সংলগ্ন সীমাঞ্চলে এআইএমআইএম পাঁচটি আসনে জয়ী হয়ে অন্তত ১৫টি আসনে জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছে ওয়াইসির দল মিম।

বিহারের নির্বাচনে এহেন ফলাফলের পরেই ওয়াইসি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে কোমর বেঁধে ল’ড়াই করার কথা ঘোষণা করে দেন। আর মিম পাখির চোখ করেছে উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদা সংখ্যালঘু প্রধান এই জেলাগুলিকে।

তৃণমূল এবং কংগ্রেসেরও প্রধান শক্তি এই সংখ্যা লঘু জেলার মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক। মিম তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক হাসিল করার ছক কষতে থাকায় তৃণমূল পাল্টা মিমের ঘরে ভাঙন ধরিয়েছে মিমের রাজ্য নেতা আনোয়ার পাশাকে তার অনুগামী সহ তৃণমূলে যোগদান করিয়ে।

আর গত সপ্তাহে মিমের যুব শাখা ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। তবে রাজ্য মিম নেতৃত্ব অবশ্য এই দলবদলকে একেবারেই গুরুত্ব দেয়নি। তবে মিম যে তৃণমূলের কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তা স্পষ্ট।

Reply