“কেন বিজেপিতে যাব? আমি তৃণমূলেই আছি”,সুর বদল জিতেন্দ্র তিওয়ারির

তবে কি গেরুয়া শিবিরের দিকেই এগিয়ে যেতে চলেছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি! একইদিনে প্রত্যেকটি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া এবং দলত্যাগ করার মতো ক্রিয়া-কলাপ এমনই প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহলে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় অবশ্য জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে বিবাদের জেরে বিজেপি দলে তাঁকে দেখতে নারাজ। বিজেপি মহিলা মোর্চা নেত্রী অগ্নিমিত্রা পলও বলেন,”ওঁকে আসানসোলের মানুষ পছন্দ করে না। বিজেপিতে ওঁকে নেওয়া উচিত নয়।”

বিজেপির উচ্চস্থানীয় নেতৃত্বে তেমন আপত্তি থাকায় বোধহয় ভোল পাল্টে ফেললেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। শুক্রবার আসানসোল থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে সকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানান

“কেন বিজেপিতে যাব? আমি কোর্টে প্র্যাকটিস করব।” তাঁর এই মন্তব্য এটাই প্রমাণ করে যে, বর্তমানে তিনি নিজেকে বিজেপি দলে যাওয়ার থেকে বিরত রাখবেন।

জিতেন্দ্র তিওয়ারি দল ত্যাগের ঘটনায় যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব। রানিগেঞ্জের টিডিবি কলেজের ছাত্র সংসদের অফিসে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা জিতেন্দ্র তিওয়ারির ছবিতে কালি লেপে দেয়।

শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছবিটা খানিকটা একই রকম। পুরপ্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার এবং তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাবার পর পাণ্ডবেশ্বরে বিধায়কের অফিস তৃণমূল দখল করে নেয়। তারপরই শুরু হয় জিতেন্দ্র তিওয়ারির ছবিতে কালি নিক্ষেপ।

এই নিয়ে জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন,”আমি তৃণমূল ছেড়েছি। অন্য দলে এখনও যোগ দিইনি। এরকম প্রতিহিংসার তো কোনও মানে হয় না।” তিনি আরো জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আর কোনো আলোচনা তিনি করবেন না। কলকাতায় মেয়ের কাছে যাচ্ছেন তিনি।

তাঁর দল ছাড়ার কারণ,তাঁর নিজের মনে হচ্ছে তৃণমূলের যতদিন তাকে প্রয়োজন ছিল ততদিন তার দাম দিয়েছে। এখন আর কোন মূল্য নেই তাই দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে বাবুল সুপ্রিয় জানান,”দল যা খুশি সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু আমি নিজের সততা এবং শক্তি দিয়ে যাঁরা এতদিন আসানসোলে আমার সহকর্মীদের উপর অত্যচার চালিয়েছে, তেমন কোনও তৃণমূল নেতাকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া থেকে আটকানোর চেষ্টা করব।”

Reply