৬ বারের পর ফের একবার কেন্দ্র-কৃষক বৈঠক, আলোচনায় মিলবে কী সমাধান

পরপর ছ’বার বৈঠকেও সমাধান মেলেনি। এমতাবস্থায় এবার ফের একবার কৃষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি কেন্দ্র। সূত্রের খবর মোতাবেক, বুধবার দুপুর ২ টোয় এই বৈঠক শুরু হবে। মুখোমুখি এই দুই পক্ষের আলোচনায় এবার জট কাটে কিনা সেই দিকেই এখন নজর দেশবাসীর।

কৃষক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ২৯ ডিসেম্বর বৈঠক করতে চেয়েছিল। কিন্তু ওইদিন সময় না হওয়ায় ৩০ ডিসেম্বর দুপুর দুটোয় বৈঠক হবে বলে জানায় কেন্দ্রের কৃষি মন্ত্রক। এদিন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে।

কৃষকরা শুরুর মতই এখনও তাঁদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। ফলে জোট আদৌ কতটা কাটে তা নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ থাকছে। কৃষকদের অন্যতম ও মূল দাবি রয়েছে, তিনটি নয়া কৃষি আইন রদ। এক্ষেত্রে কোনও শর্তে যেতে রাজি নয় কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, এই নয়া তিনটি আইন পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। এছাড়া, কৃষি পণ্যের ন্যায্য লাভজনক ন্যূনতম সহায়ক মূল্য স্থির করা, কৃষক স্বার্থে বিদ্যুৎ সংশোধন বিল পরিবর্তন করা ও দিল্লির দূষণ রুখতে খড় পোড়ানোর জন্য চাষিদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির আইনে সংশোধন করা এগুলিও কৃষকদের দাবি রয়েছে।

একদিকে কৃষকরা যখন এসব দাবি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন, তখন বৈঠকে বসার আগে আলোচনা সারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। মঙ্গলবার প্রায় ২ ঘন্টা বৈঠক করেন তাঁরা। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পীযূষ গোয়েলও। অর্থাৎ আলোচনার আগে কেন্দ্রও যে নিজেদের রণকৌশল সাজিয়ে নিয়েছে তা বলাই যায়।

উল্লেখ্য, প্রায় একমাস ধরে চলা এই কৃষক বিক্ষোভের জেরে ঘরে-বাইরে প্রবল চাপে মোদী সরকার। কার্যত নিজের দলের সমালোচনা করে বিজেপি সাংসদ সুশীল মোদী জানিয়েছেন, যদি অরুণ জেটলি বেঁচে থাকতেন, তবে কৃষক বিক্ষোভ এতদিন চলতেই পারত না। এছাড়া আন্তর্জাতিক মহলেও কৃষকদের এই বিক্ষোভ সমর্থন পেয়েছে।

অন্যদিকে কৃষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত এক মাস ধরে দুই লক্ষ কৃষক ধরনা চালাচ্ছে অথচ এই সরকার কৃষকদের মূল সমস্যার কথা এড়িয়ে সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় ডাকছে। ফলে তা গ্রহণ করা কৃষকদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

Reply