‘মুখ্যমন্ত্রীর কথায় অনুপ্রাণিত বিজেপি’র চপের দোকান!

মুখ্যমন্ত্রীর কথায় অনুপ্রাণিত বিজেপি’ রাস্তায় দাঁড়িয়ে চপ তেলেভাজার দোকান দিল। বুধবার সকাল থেকে ‘মমতা চপ ইণ্ডাস্ট্রী’ নাম দিয়ে বিজেপির বাঁকুড়া ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির পক্ষ থেকে শহরের সার্কিট হাউসের সামনে দলীয় পতাকায় সুসজ্জিত এই চপ তেলে ভাজার দোকান দেওয়া হয়।

জেলা বিজেপি সূত্রে দাবি, বিগত ন’বছরে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সরকারী নিয়োগ বন্ধ, রাজ্যে নতুন শিল্পের দেখা নেই।

ফলে একটা বড় অঙ্কের শিক্ষিত যুবক যুবতী কর্মসংস্থানের খোঁজে যখন হন্যে হয়ে ঘুরছেন, ঠিক তখনই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঐ সব শিক্ষিত বেকারদের ‘চপ তেলেভাজা’র দোকান দেওয়ার কথা বলছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাঁদের এই অভিনব প্রতিবাদ আন্দোলন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন সকালে এই সার্কিট হাউস মোড়ে প্রাতঃরাশ করতে আসি। অন্যদিন রুটি খাই, আজ বিজেপির দোকানে মুড়ি, চপ বেগুনী খেলাম। শিক্ষিত বেকারদের কাজ নেই, এভাবে যদি দোকান দিয়ে তাদের উপকার হয়, তো ভালোই হবে।

এদিন গরম তেলে নিজের হাতে চপ ভাজার ফাঁকেই বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সহ সভাপতি নীলাদ্রী দানা বলেন, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীদের কোনও কাজ দিতে পারছেন না। নতুন শিল্পের দেখা নেই, প্রাইমারী-আপার প্রাইমারী টেট উর্ত্তীর্ণরা দিনের পর দিন ধর্ণা দিচ্ছে। আর ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী তাদের চপ তেলেভাজার দোকান দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সেকারণে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরাও ওই চপ তেলেভাজার দোকান খুলে ওনার ‘ভাই-ভাইপোদের মতো কোটিপতি হতে চাই’। ‘গণতন্ত্রহত্যাকারী, সিণ্ডিকেটরাজ’ এই সরকারকে মানুষ আর চাইছেন না বলেও তিনি দাবি করেন।

জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমি অনেককেই জানি যারা চপ তেলে ভাজা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছে’। ঐ মানুষ গুলিকে কি বিজেপি ‘ব্যাঙ্গ করছে’ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,’ ছ’বছর তো ওরা কেন্দ্রে আছে, এরাজ্যে একটাও কি নতুন শিল্প আনতে পেরেছে।

শুধু রেল, বিএসএনএল-র মতো রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি এই কাজ প্রচারে আসার জন্য করছে। আগামী দিনে যারা এই চপ তেলে ভাজার দোকান দেবেন তাঁরা তাঁদের উৎসাহিত করবেন’।

Reply