নতুন বছরের উপহার: মালদ্বীপে বিসিজি ভ্যাকসিন পাঠাল ভারত

কূটনীতির চালে বন্ধুত্বের হাত। নতুন বছরের উপহার হিসেবে মালদ্বীপে বিসিজি ভ্যাকসিন পাঠাল ভারত। ২৪০০ ভায়েল বিসিজি ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে বলে খবর। বছরের শেষ দিনেই ভারতের এই উপহার পৌঁছেছে মালদ্বীপে। যক্ষ্মার হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে প্রয়োজন এই বিসিজি ভ্যাকসিন। মালদ্বীপে ন্যাশনাল ভ্যাকসিনেশন প্রকল্পে সাহায্য করতে ভারত পাশে দাঁড়িয়েছে ওই দেশের।

মালদ্বীপ হাই কমিশনের কাছে ওই ভ্যাকসিন এসে পৌঁছেছে। তা গ্রহণ করেছে মালদ্বীপ বিদেশমন্ত্রক। উল্লেখ্য গত ছয় বছর ধরেই এই দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। সেই কাজে বেশ সফলও হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ক্রমশ প্রভাব বাড়াচ্ছিল চিন। ভারতের প্রতিবেশি দেশগুলির ওপর প্রভাব বাড়িয়ে ভারতকে চাপে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এবার এরই পাল্টা দেয় ভারত। নয়া কূটনৈতিক চালে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক মজবুত করার প্রক্রিয়া শুরু করে দেয় নয়াদিল্লি

এক বিবৃতি প্রকাশের মাধ্যনে ভারতীয় হাই কমিশন জানিয়েছে ভারত বরাবরই তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলির প্রতি সহানুভূতিশীল। মালদ্বীপের সবরকম সমস্যায় ভারত পাশে রয়েছে। নভেম্বর মাসেই দুদিনের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা পৌঁছে দিতেই তাঁর এই বৈঠকে অংশগ্রহণ বলে সংবাদমাধ্যম জানায়। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে বৈঠক চলে নভেম্বরের ২৭ ও ২৮ তারিখ ধরে। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানায় এই সম্মেলনে ভারত মহাসাগরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির যৌথ মহড়ার পক্ষে সওয়াল করেন দোভাল।

গত বছরও মালদ্বীপের পাশে দাঁড়ায় ভারত৷ মালদ্বীপের প্রাচীন স্থাপত্যগুলির পুনর্নিমাণে সাহায্য করার কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। মুসলিম অধ্যুষিত মালদ্বীপে দাঁড়িয়ে একথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ মালদ্বীপ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন প্রাচীন স্থাপত্যগুলির সংরক্ষণে আগ্রহী ভারত৷ এর মধ্যে প্রবাল পাথরে তৈরি প্রাচীন ফ্রাইডে মস্ক (Friday Mosque) বা হুকুরু মিস্কিইর নাম বিশেষ ভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী৷ এই ধরণের মসজিদ পৃথিবীর কোথাও নেই৷ ভারত চায় এই মসজিদের সংরক্ষণ ও পুনর্নগঠনের সাহায্য করতে৷

উল্লেখ্য এই ফ্রাইডে মস্ক ১৬৫৮ সালে তৈরি হয়৷ মালের অন্যতম প্রাচীন ও অলংকরণে সুসজ্জিত এই মসজিদ দর্শকদের অন্যতম পছন্দের ভ্রমণস্থান৷ ২০০৮ সালে ইউনেস্কো এই মসজিদকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কালচারাল লিস্টে স্থান দেয়৷ সমুদ্র ভাস্কর্য বিভাগের অন্যতম এই মসজিদ আজও মালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থান

Reply