জঙ্গলমহলে শুভেন্দু-দিলীপের সভায় হতাশাজনক ভিড়, মাত্র এক-দেড় হাজার মানুষ নিয়ে হলো সভা

মুখ্যমন্ত্রী এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে কটাক্ষের তীরে বিঁধলেন দিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষ। রবিবার ঝাড়গ্রামের সভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিজেপিতে যোগদান করা শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেন,”দক্ষিণ কলকাতায় পিসি-ভাইপোর কোম্পানি চলছে। জেলাকে দূরে করে দিচ্ছে। এই সরকারকে তাই উৎখাত করতেই হবে।”

নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন,”এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর দিদির অনেক পরিবর্তন হয়েছে, ভাইদের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু বাংলার কোনও পরিবর্তন হয়নি”।

তিনি আরও বলেন,”অখণ্ড মেদিনীপুরের ৩৫টি আসনেই জিতবে বিজেপি। বাংলায় ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসব আমরা।”

সৌমেন্দুর বিজেপিতে যোগদানের পর শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ,”পুর-নির্বাচন হলেই তৃণমূল হারবে। তাই ভয়ে ভোট করাচ্ছে না সরকার। ভোট করলেই পঞ্চায়েতের মতো অবস্থা হবে। ভোট লু’ঠ করবে আর পরের ভোটে হারবে। তাই ঝুলিয়ে রেখেছে।”

শাসক দলের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন,”কেন্দ্রের টাকা তৃণমূল তছরুপ করেছে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উম্পুনের টাকা সব খেয়ে নিয়েছে। এবার জবাব দিতে হবে। কেন্দ্রের প্রকল্পের নাম বদলে বাংলার নামে চালানো হচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারতও বাংলায় চালু করতে দিচ্ছে না তৃণমূল”।

বিজেপির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর “ডিল” নিয়ে যোগ্য জবাব দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন,”তৃণমূল নেতারা বলে বেড়াচ্ছেন আমার সঙ্গে নাকি বিজেপির ডিল হয়েছে। হ্যাঁ, ডিল হয়েছে। বিজেপির সঙ্গে আমার উন্নয়নের ডিল হয়েছে।”

শাসক দলের পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে বিশ্বাসঘাতক তকমা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”এক নেতা বলছেন আমি বিশ্বাসঘাতক। কিন্তু মেদিনীপুরে বিশ্বাসঘাতক জন্মায় না। বিদ্যাসাগররা জন্মান। মানুষই জবাব দেবেন ইভিএমে”।

তিনি আরো বলেন,”আমি কি বানের জলে ভেসে আসা লোক? কাঁথিতে বলেছিল মহিলা কলেজ দেবে, দেয়নি। ডায়মন্ড হারবার জোড়া বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে।

হরিশ চ্যাটার্জি, হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের বাইরে ওরা কিছু ভাবে না। আমরা কি সব চাকর-বাকর? সাড়ে ন’বছর পর এখন যমের দুয়ারে সরকার। আবার আসছে পাড়ায় পাড়ায় সমাধান। কিচ্ছু হবে না। সব ঢপের চপ”।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য,”তোলাবাজ ভাইপো বলায় তৃণমূলের খুব গায় লেগেছে। আর লালা, এনামুল তৃণমূল করেছে এতদিন, একইসঙ্গে গোরু-বালিও চু”রি করেছে।

সুবর্ণরখা থেকে বালি চু”রি করে বিক্রি করে দিচ্ছে। এদের থেকে টাকা কাঁদের কাছে গিয়েছে, সেটা তো দেখতে হবে। তাই এবার দিল্লি ও বাংলায় এক দলের সরকার থাকবে। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি বাংলায় সরকার গড়বে ২০০-র বেশি আসন নিয়ে।”

শুভেন্দু অধিকারীকে সমর্থন জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন,”চিন্তা করবেন না, নতুন বছরে করোনার মতই তৃণমূল সরকার চলে যাবে। তৃণমূল অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস, অনেক ক্ষতি করেছে বাংলার।

মে মাসের পর তৃণমূল আর থাকবে না।”দিলীপ ঘোষের বক্তব্য শুরু হওয়ার আগেই সভা থেকে চলে যান শুভেন্দু অধিকারী। অন্য কর্মসূচির জন্য চলে যেতে হয়েছে শুভেন্দুকে,জানান দিলীপ।

Reply