লাদাখে চিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, তিব্বতিদের গোপন সেনা পেল স্বীকৃতি…

লাদাখে চিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার পাশাপাশি রুখে দাঁড়িয়েছিল স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স (এসএফএফ)। এটি ভারতে বসবাসরত তিব্বতীদের একটি গোপন ইউনিট। লাদাখে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য SFF-এর এই বীরত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মেনশন-ইন-দেশপ্যাচস বিভাগের অধীনে টেজারিং নরবুকের নাম নেওয়া হয়। এটি পূর্ব লাদাখের ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন স্নো লেপার্ডে তাঁর ভূমিকার জন্য তাঁকে এই এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অপারেশন স্নো লেপার্ডের বিভাগে পুরষ্কার প্রাপ্ত অন্য ৫৪ জনের মধ্যে তিনিও রয়েছেন। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর ভারতে বসবাসরত তিব্বতিরা একটি গোপন দলের সঙ্গে যুক্ত হন। এটিই হল স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সে বা এসএফএফ। এর পর থেকে এই ইউনিটটি ১৯৭১ সালের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ১৯৯৯ সালে কার্গিল সংঘাত এবং অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ মিশনের অংশ ছিল।

লাদাখে চলমান অভিযানের সময় এসএফএফ চিনাদের বিরুদ্ধে অভিযানের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। সুবেদার নিয়মা তেনজিন ২০২০ সালের ২০ আগস্ট প্যানগং লেকের দক্ষিণে অভিযানের সময় একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে শহিদ হন। লেহে তিব্বত সম্প্রদায়ের ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করে। সম্ভবত এটিই ছিল গোপন বাহিনীর প্রথম প্রকাশ্য স্বীকৃতি। ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী তিব্বতীদের জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত ছিল। জুন মাসের প্রথম থেকেই চুষুলে মোতায়েন ছিলেন এসএফএফের আরেক জওয়ান তেনজিন লন্ডেন। মাইন বিস্ফোরণে তিনি আহত হলেও পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স বা এসএফএফের বিষয়ে এখন পর্যন্ত খুব বেশি কথা হয়নি। চিনের সঙ্গে আট মাসের সামরিক লড়াইয়ের মধ্যে লাদাখ সীমান্তে সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তাদের জনগণের সামনে এনেছে। লাদাখ অপারেশনের জন্য অন্যান্য বীরত্বের পুরষ্কারের মধ্যে একটি মহাবীর চক্র, ৫ টি বীর চক্র, ১৫ টি সেনা পদক এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বীরত্ব পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে। লাদাখের ৭ হাজার ৫০০ জন তিব্বতির মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন হয় আগে থেকেই এসএফএফের অংশ বা এখনও এসএফএফের হয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করছেন। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ, সিয়াচেন হিমবাহ দখলের জন্য ১৯৮৪ সালে অপারেশন মেঘদূত ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তথ্যসূত্রঃ kolkata24x7

Reply