বেহালা পশ্চিমে লড়াই কোথায়? বলছে তৃণমূল

বেহালা পশ্চিমে এবার রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে তৃণমূলের কোনও চিন্তা নেই । চিন্তা নেই স্বয়ং পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরও। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বেহালা পশ্চিমের পঞ্চমবারের প্রার্থী। এবার জিতলে পার্থবাবু বেহালা পশ্চিমে পঞ্চমবারের জন্য বিধায়ক হবেন। বেহালা পশ্চিম বিধানসভায় এবার পার্থবাবুর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী রাজনীতির ময়দানে একেবারে নতুন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। তাই পার্থবাবুর জয়ের বিষয়ে চিন্তাটা অনেকটাই কম। তবে আমরা যদি ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকাই তবে আমরা দেখতে পাবো রায়দিঘি বিধানসভায় সিপিএম নেতা ও প্রার্থী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়ের কাছে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। তাই রাজনীতিতে হয় না বলে কিছু নেই।

তাও বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বক্তব্য, এই বিধকনসভায় কোনও কাজ আর বাকি নেই। উন্নয়নের সব রকমের কাজ করা হয়ে গেছে। তাই তৃণমূল প্রার্থীর পরাজয়ের কোনও সম্ভাবনাই নেই। তৃণমূলের দাবি রাজ্য সরকারের উন্নয়নের সমস্ত সুফল বেহালা পশ্চিমের মানুষ পেয়েছেন। করোনা, প্রবল আমফান ঝড়ের সময় এই এলাকার মানুষের পাশে তৃণমূল দাঁড়িয়েছে। ত্রাণ বিলি, বিনা পয়সায় খাবার বিলি সব কাজই তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। তাই জয়ের ব্যাপারে তৃণমূলের কোনও চিন্তা নেই। বেহালা পশ্চিমে লড়াই কোথায়? বলছে তৃণমূল।

এদিকে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় এবার পার্থবাবুর বিরুদ্ধে বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী। তিনিও আশাবাদী তিনি জিতবেন। বিভিন্ন সভা সমিতিতে তিনি বলছেন, “আমি বেহালার মেয়ে। আমার স্কুল, বড় হয়ে ওঠা সব বেহালায়। কাজেই এখানকার মানুষ আমায় চেনেন, জানেন। তাঁরা আমায় বিমুখ করবেন না। আমার মা,বাবা, ভাই, বোন এখানেই থাকেন। তাই এটা আমার ঘরবাড়িও বলতে পারেন।” যদিও শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় এখন বেহালা পশ্চিমে থাকেন না। তিনি থাকেন বাইপাসের একটি বহুতলে।

বেহালা পশ্চিমের সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী নিহার ভক্ত। তিনি ১২৭ নম্বরের পুরোপিত। পেশায় গৃহ শিক্ষক। বিভিন্ন সভা সমিতিতে গিয়ে তিনি বলছেন, পার্থবাবু রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। রাজ্যে কোন শিল্পটা তিনি এনেছেন? শিক্ষামন্ত্রী হয়েও বা রাজ্যে শিক্ষার হাল কী করেছেন? তিনি যদি তাঁর দফতরে কাজ করতেন তাহলে শিক্ষকদের চাকরির জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হতো না। আসলে দুর্নীতির আর এক নাম তৃণমূল। তাই পার্থবাবু বলতেই পারেন তিনি জিতবেন। কিন্তু ভোটের ফলটা নির্ধারণ করবেন বেহালা পশ্চিমের মানুষ। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যারাই বিজেপি, তারাই তৃণমূল। তাই এবার এদের আর ভোট নয়। তবে বাস্তবে কী হবে বা হতে চলেছে বেহালা পশ্চিমে সেটা জানা যাবে ২ মে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন।

Reply