Tuesday , September 21 2021
Breaking News

ভাবমূর্তি ফেরাতে মুকুল, শুভেন্দুকেও গারদে ঢোকানোর দাবি বিজেপির অন্দরেই

পারতপক্ষে নারদ প্রসঙ্গ এড়িযেই যাচ্ছেন৷ এমনকি মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গে বিশেষ ‘রা’ কাড়ছেন না বঙ্গ বিজেপির অধিকাংশ নেতাই৷ তবে বিজেপির অন্দরের খবর বলছে, রাজ্য তো বটেই জেলায় জেলায় গেরুয়া শিবিরের একাংশের মধ্যে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, মুকুল, শুভেন্দুকে অ্জেযালের ঘানি@ টানানোর দাবিটি৷

তাঁদের যুক্তি, ২০১১ সালের পর থেকে বাংলায় বিজেপির ওপর তৃণমূলের অত্যাচারের পরিকল্পনার মূল মাথা ছিলেন, শুভেন্দু-মুকুল৷ প্রশ্ন তুলেছেন, এখন দায়ে পড়ে যেমন গেরুয়া খাতায় নাম লিখিয়েছেন, তেমনই দায় মিটে গেলে তাঁরা যে ফের রূপ বদলাবেন না তার গ্যারেন্টি কোথায়? অকাঠ্য এই যুক্তির সামনে স্বভাবতই উত্তর নেই নেতৃত্বের৷ স্বভাবতই দলের অন্দরে একটা অংশে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, নারদা কাণ্ডে শুভেন্দু-মুকুলকে গ্রেফতারের বিষয়টি৷ কেন তাঁরা তৃণমূলের প্রাক্তন এই দুই নেতার গ্রেফতারির দাবি জানাচ্ছেন তাঁর স্বপক্ষে একাধিক যুক্তিও খাড়া করেছেন বিদ্রোহীরা৷

বিদ্রোহীদের ব্যাখ্যা:
এক: ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির যে অপ্রত্যাশিত ফল হয়েছিল, তার সিংহভাগ ক্রেডিটই ছিল মোদীজির৷ শুভেন্দু তখনও তৃণমূলে আর মুকুল বিজেপিতে থাকলেও এরাজ্যে বিশেষ সক্রিয় ছিলেন না৷

দুই: লোকসভার নিরিখে ১২১টি আসেন এগিয়ে থেকে, এবারে বাংলায় গেরুয়া ঝড় থাকা সত্ত্বেও সেই ১২১টি আসনও ধরে রাখা যায়নি৷ পার হয়নি তিন সংখ্যা৷ এর থেকেই স্পষ্ট মুকুল, শুভেন্দু ফ্যাক্টর কাজ তো করেইনি, উলটে ব্যুমেরাং হয়েছে বিজেপির পক্ষে৷

তিন: ভোট পরবর্তী লাগাতার হিংসার রাজনীতি জারি রেখেও নারদা কাণ্ডে স্রেফ মুকুল, শুভেন্দুকে দেখিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার যাবতীয় অভিযোগ চাপিয়ে তৃণমূল আরও বেশি করে নিজেদের জনভিত্তি শক্তিশালী করে ফেলছে৷ তাতে আগামীদিনে বাংলায় বিজেপির সংগঠন বিস্তার তো দূরে থাক, ধরে রাখাটাই টাফ হয়ে দাঁড়াবে৷

চার: বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবা সংঘের দুটি নিবন্ধতেও তৃণমূল নেতা, মন্ত্রীদের ভোটের আগে দলে নেওয়ার বিষয়টিকে মানুষ ভাল চোখে দেখেননি বলে স্বীকার করা হয়েছে৷

পাঁচ: এই আবহে আইনের দোহাই দিয়ে শুভেন্দু, মুকুলকে গ্রেফতার করিয়ে দিলে একদিকে যেমন তৃণমূলের প্রতিবাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া যাবে তেমনই জনমানসে এই বার্তাটাও যাবে, যে অন্যায়ের প্রশ্নে মোদীজি দলের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়কদেরও রেয়াত করেন না৷

ছয়: ২০১৬ সালের নির্বাচনে মমতা বলেছিলেন, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে৷ কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তৃণমূল নেত্রী দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন৷ এহেন প্রেক্ষিতে মুকুল, শুভেন্দুকে জেলে ঢোকালে তৃণমূল নেত্রীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিও ধাক্কা খাবে৷ অনায়াসে সেই জায়গাটা দখল করতে পারবেন মোদীজি৷

About L..

Check Also

ফাইল চিত্র।

Dilip Ghosh on Babul Supriyo: মন্ত্রী হতে এসেছিলেন যাঁরা, তাঁরা কোথায়? দিলীপের বাবুল-কটাক্ষের লক্ষ্য দিল্লি?

বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র তৃণমূলে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত দলের উপরতলার দিকে আঙুল তুললেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *