আবার ধাক্কা খেল মোদী সরকার, সুস্থায়ী উন্নয়নে বাংলাদেশের থেকে পিছিয়ে ভারত

ভারত দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ ভুটান, নেপাল , শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের থেকেও পিছিয়ে রয়েছে।

করোনা সংকটের (Corona Crisis)মধ্যে আরও একটি বড় ধাক্কা খেল ভারত (India)। সুস্থায়ী উন্নয়নের (Sustainable Development Goals) ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় আরও ২ ধাপ নিচে নেমে গেল ভারত। রাষ্ট্রসংঘের (United Nation) নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর যেখানে ভারতের স্থান ছিল ১১৫ নম্বরে, সেখানে এই বছর ভারতের র‍্যাঙ্ক পিছিয়ে হয়েছে ১১৭।

২০৩০-এর মধ্যে সুস্থায়ী উন্নয়নের (Sustainable Development Goals) যে ১৭টি মাপকাঠি স্থির করেছে রাষ্ট্রসংঘ, তার ভিত্তিতে ২০১৫ সাল থেকে ১৯৩টি সদস্য দেশের ক্রমতালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় ভারত অনেকটাই পিছিয়ে গেল। ভারত দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ – ভুটান(Bhutan), নেপাল (Nepal), শ্রীলঙ্কা (Srilanka) এবং বাংলাদেশের (Bangladesh) থেকেও পিছিয়ে রয়েছে। ১০০ পয়েন্টের মধ্যে ভারত পেয়েছে ৬১.৯ । এ বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের (United Nation) রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ক্ষুধা নিবৃত্তি ও খাদ্য নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা, লিঙ্গ সমতা, শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। সেই কারণেই এই তালিকায়ও পিছিয়ে পড়েছে ভারত।

রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০৩০-এর মধ্যে সুস্থায়ী উন্নয়নের (Sustainable Development Goals) মাপকাঠিগুলি পূরণ করার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম বিহার ও ঝাড়খণ্ডের। এই তালিকায় শীর্ষে আছে কেরলা, হিমাচল প্রদেশ এবং চন্ডীগড়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ঝাড়খন্ড পিছিয়ে আছে পাঁচটি ক্ষেত্রে, এবং বিহার পিছিয়ে আছে সাতটি ক্ষেত্রে।

পরিবেশের (Environment) ক্ষেত্রে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬৮ নম্বরে ভারত। পরিবেশের স্বাস্থ্য, জলবায়ু, বায়ুদূষণ, পরিচ্ছন্নতা ও পরিশ্রুত পানীয় জলের সরবরাহ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র বিচার করা হয়েছে। সব মাপকাঠিতেই পিছিয়ে রয়েছে ভারত।

দারিদ্র্য দূর করা, অনাহার, সুস্বাস্থ্য, উন্নত মানের শিক্ষা ব্যবস্থা, লিঙ্গগত বৈষম্য দূরীকরণ, পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ ও পরিচ্ছন্নতা, সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, শিল্প, উদ্ভাবন ও পরিকাঠামো, উপযুক্ত বাসস্থান ও সমাজ গড়ে তোলা, জলবায়ু পরিবর্তন রোখার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ, জলের নীচের অঞ্চলের জীবন, স্থলভাগের জীবন, শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জোরদার বোঝাপড়া গড়ে তোলা, মূলত এই রূপরেখার ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে।

Reply