Tuesday , September 21 2021
Breaking News

দেখা নেই বিজয়বর্গীর, মুকুলের প্রস্থানের পরেও নাড্ডা-অমিত শাহ চুপ

সুমন ভট্টাচার্যঃ তিনি ঢোল বাজিয়েছেন| কীর্তনের সঙ্গে চমৎকার নেচেছেন| যে কোনো বিষয়ে টুইট করে, ভিডিও পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন| চিঁড়ে খেতে দেখলেই তিনি বুঝে ফেলতে পারতেন অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দেখা পাওয়া গিয়েছে| এহেন কৈলাস বিজয়বর্গীর খোঁজ নেই! মুকুল রায় পদ্মফুল ছেড়ে ঘাসফুলে ফিরে যাওয়ার পর ২৪ ঘন্টা কেটে গেলেও বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি|

কোথায় গেলেন অমিত শাহের দক্ষিণ হস্ত, যাঁর নির্দেশ ছাড়া রাজ্য বিজেপিতে কেউ পদ তো দূরের কথা, হেস্টিংসের অফিসে বসার চেয়ারটুকুও পেতেন না ? এরপরে তো বিজেপি কর্মীদের মধ্যে কারও সেইরকম রসবোধ থাকলে হেস্টিংসের নতুন দফতর কিংবা মুরলীধর সেন লেনের বাইরে নিরুদ্দেশের সন্ধান চাই বলে পোস্টার দেবেন| যদি ভাবেন মুকুল রায়ের ঘর ওয়াপসিতে কৈলাস বিজয়বর্গীর চুপ থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন, তাহলে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার শুক্রবারে সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া মন্তব্যটা দেখে নেওয়া যেতে পারে| উত্তেজিত রাহুল সিনহা বলেছিলেন, মুকুল রায় কেন তৃণমূলে ফিরে গেলেন, সেই নিয়ে ব্যাখ্যা একমাত্র দিতে পারবেন বিজয়বর্গী| কারণ সবাই জানেন, মুকুল রায়কে বিজেপিতে নিয়ে যাওয়ার বা সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করার বিষয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল কৈলাস বিজয়বর্গীর| আর আগাগোড়া এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন বিজেপির পুরনোরা, মানে রাহুল সিনহা বা দিলীপ ঘোষ|

আসলে মুকুল রায় চলে যাওয়ার পরে বিজেপির সব নেতাই এত কিংকর্তব্যবিমূর যে এখনও বুঝে উঠতেই পারছেন না কে কি প্রতিক্রিয়া দেবেন। তারকেশ্বরের হেরো প্রার্থী এবং আবার রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে যাওয়া স্বপন দাশগুপ্ত দিল্লিতে বসে ট্যুইট করে যেটা বলেছেন, সেটাকে পুরানো ময়দানি ভাষায় সেটাকে ভোকাল টনিক বলে। একসময় কলকাতা ময়দানে কোচ পিকে ব্যানার্জীর ভোকাল টনিকে নাকি অনেক ম্যাচের জয় পরাজয়ের ফয়সলা হয়েছে। আকবরের সেই ঐতিহাসিক গোলের পিছনেও খেলা শুরুর এক মিনিটেরও আগে নাকি পিকে’র ভোকাল টনিক ছিল। কিন্তু বিলেত ফেরত সেলিব্রেটি সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত ভুলে গিয়েছেন, রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হন, তাহলে দিল্লিতে বসে ট্যুইট করে ভোকাল টনিক দিলে কোনও লাভ হবে না, বরং নিজেদের গোলে বল ঢুকে যেতে পারে। শনিবার যেমন ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করতে করতে বিজেপি বিধায়কদের ফোন করা শুরু করে দিয়েছেন সদ্য গেরুয়া শিবির ছেড়ে আসা মুকুল রায়।

উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে যখন সামনের বছর বিধানসভা নির্বাচন, তখন পশ্চিমবঙ্গে দল ক্রমাগত ভাঙতে থাকলে সেটা অমিত শাহ-জেপি নাড্ডাদের জন্য খুব ভালো বিজ্ঞাপন হবে না। কিন্তু পরিবর্তক্রিয়ায় বিজেপি কি করবে তাই বোধহয় এখনও অবধি ঠিক করতে পারছে না। তার কারণ, এতদিন অমিত শাহ এই কৈলাস বিজয়বর্গীর মতো দলের সাধারণ সম্পাদকদের দিয়ে বিপক্ষের দল ভাঙানোর যে খেলাটা খেলতেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সপাটে তার উত্তর দিয়েছেন। মমতা-অভিষেকের সঙ্গে মুকুল রায় যোগ দিলে যে বিপজ্জনক ত্রয়ী তৈরি হতে পারে, তার আঁচ বিজেপি ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে অমিত শাহরা এই কৈলাস বিজয়বর্গীকে ব্যবহার করে হরিয়ানা থেকে এক মিডিয়া টাইকুনকে জিতিয়ে এনেছিলেন, যখন দেখা গিয়েছিল রাজ্যসভার নির্বাচনে কংগ্রেসের দশ-দশ জন বিধায়ক টিক দেওয়ার জন্য ভুল কালি ব্যবহার করেছেন। বিপক্ষকে ভেঙে দুমড়ে নিজেদের এগিয়ে রাখার যে রাজনীতি এতদিন বিজেপি করে এসেছে, এবার তার পাল্টা উত্তর আসছে। স্বভাবতই উধাও কৈলাস বিজয়বর্গী, অমিত শাহ বা জেপি নাড্ডাও কিছু বলছেন না।

কৈলাস বিজয়বর্গী শেষবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন সাইকেল চালালে অক্সিজেনের জোগান বাড়বে, এমন অসাধারণ তত্ত্ব ট্যুইট করে। গেরুয়া শিবিরের পছন্দের বাবা রামদেব যখন চিকিৎসকদের সঙ্গে সংঘাতে ছিলেন, ঠিক তখনই বিজেপির সা্ধারণ সম্পাদকের এই অসাধারণ তত্ত্ব সবাইকে একদম বিস্মিত করে দিয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে যখন বিজেপিতে বড় ভাঙন, তখন আর বিজয়বর্গীর বিজয়বার্তাও আসছে না, কোনও অমিত-বিক্রমবাণীও শোনা যাচ্ছে না।

About A..

Check Also

ফাইল চিত্র।

Dilip Ghosh on Babul Supriyo: মন্ত্রী হতে এসেছিলেন যাঁরা, তাঁরা কোথায়? দিলীপের বাবুল-কটাক্ষের লক্ষ্য দিল্লি?

বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র তৃণমূলে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত দলের উপরতলার দিকে আঙুল তুললেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *