Tuesday , September 21 2021
Breaking News

বাংলায় বিজেপির উত্থান ও মুকুল রায়

কলকাতা: এরাজ্যে বিজেপির (Bjp) উত্থানের পিছনে মুকুল রায়ের (Mukul Roy) ভূমিকা অনেক। ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে দলটির খোলনলচে বদল এনছিলেন মুকুল। পোড়খাওয়া রাজনীতিক মুকুল বুঝেছিলেন, একেবারে বুথস্তর থেকে দলকে শক্তিশালী করা না গেলে সাফল্য মেলা কঠিন। সেই লক্ষ্যেই এগিয়েছিলেন তিনি।

তৃণমূলে থাকাকালীন যেভাবে দলের সংগঠন পরিচালনা করতেন, বিজেপিতে এসেও একই ধাঁচে দল পরিচলনার চেষ্টা করে গিয়েছিলেন। মুকুল রায়ের জন্যই ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এরাজ্যে বিপুল সাফল্য পায় বিজেপি, এমনই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। এমনকী এরাজ্যে বিজেপি প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠার পিছনেও তাঁর ভূমিকা কিছু কম নয়।

তবে ২০১৭ সালে হঠাৎই ছন্দপতন। তৃণমূল (Tmc) ছেড়েছিলেন মুকুল রায়। বড়সড় ধাক্কা নেমে আসে জোড়াফুল শিবিরে। এরপর মুকুল রায়ের হাত ধরেই ঘর ভাঙতে শুরু হয় তৃণমূলের। একে একে বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী নাম লেখান গেরুয়া শিবিরে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে রাজ্যে বিরাট সাফল্য পায় বিজেপি (Bjp) । লোকসভার ১৯টি আসন জিতে নেয় পদ্ম শিবির।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে গেরুয়া দলের এই উত্থানের পিছনে মুকুল রায়ের বড়সড় ভূমিকা ছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে সাফল্যের পরেই দলে মুকুল রায়ের গুরুত্ব বাড়ানো নিয়ে সওয়াল ওঠে। বিজেপিতে এরপর বড় পদ পান মুকুল রায়। দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হয় তাঁকে।

২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েই দলের বুথস্তর শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেন মুকুল রায়, যার ফল বিজেপি পায় ঠিক তার পরের বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালে। সে বছরের পঞ্চায়েত ভোটে সাফল্য পায় গেরুয়া দল। গোটা রাজ্যে ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে বিজেপির শক্তি। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটেই এরাজ্যে তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে বিজেপি।

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যে ৫ হাজার ৭৫৯টি পঞ্চায়েত আসন পায় বিজেপি। একইসঙ্গে জয় আসে ৭৬৪টি পঞ্চায়েত সমিতির আসনেও। ২৩টি জেলা পরিষদের আসনও জেতে বিজেপি। মুকুলের হাত ধরেই একদা মাওবাদী অধ্যূষিত পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া জেলায় শক্তি বাড়ে বিজেপির।

এরপর উনিশের লোকসভা ভোট। রাজ্যে আশাতীত সাফল্য পায় বিজেপি। লোকসভার ১৮টি আসনে জয় পায় পদ্ম শিবির। এই জয়েও মুকুলের ক্ষুরধার রাজনৈতিক মস্তিষ্ক দারুণভাবে সফল বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে মুকুলের ক্রম বর্ধমান উত্থান হলেও কোথাও একটা ফাঁক নিশ্চই থেকে গিয়েছিল। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হয়েছিল মুকুল রায়কে।

মোদী-শাহ-নাড্ডাদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতস্তরে সম্পর্ক পর্যন্ত ছিল। তবে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে শুরু থেকেই তাঁর সম্পর্ক জোরদার হয়নি। পরবর্তী সময়ে সম্পর্কে দূরত্ব আরও বেড়েছে। শেষমেশ গতকালই বিজেপি ছেড়ে ফের একবার পুরনো দল তৃণমূলে ফিরেছেন মুকুল রায়। পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে সঙ্গে নিয়েই জোড়াফুলে মুকুল।

About A..

Check Also

ফাইল চিত্র।

Dilip Ghosh on Babul Supriyo: মন্ত্রী হতে এসেছিলেন যাঁরা, তাঁরা কোথায়? দিলীপের বাবুল-কটাক্ষের লক্ষ্য দিল্লি?

বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র তৃণমূলে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত দলের উপরতলার দিকে আঙুল তুললেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *