Monday , September 20 2021
Breaking News

চুপ বিচার চলছে! বর্মী সেনার ঘেরাটোপে সু কি’র ১৫ বছরের জেলের সাজা তৈরি

নেপিদ: ইরাবতী নদীর তীরে জনজীবন দুলছে উতকণ্ঠায়। কী হয় কী হয় ভাব। চুপ বিচার চলছে! এমনই নীরব বার্তা দিয়েছে বর্মী সেনা। অভ্যুত্থানের পর অপসারিত সরকারের সর্বচ্চো নেত্রী আউং সান সু কি (Aung San Suu Kyi) যে কোন গোপন স্থানে বন্দিনী তা কেউই জানে না। রয়টার্স, বিবিসি, সহ আন্তর্জাতিক সব সংবাদ মাধ্যমের খবর মায়ানমারের (Myanmar) সামরিক সরকার পূর্ব ঘোষণা মতো সু কি-র বিচার শুরু করেছে।

বিচারের ফল কী হবে? সামরিক সরকারের ইঙ্গিত অন্তত ১৫ বছরের জন্য জেলে পাঠানো হতে পারে সু কি কে। বিবিসি জানাচ্ছে, ৭৫ বছরের সু কি এখন বর্মী সেনার মেশিনগানের মুখে অসহায়। যদিও তাঁর মুক্তির দাবিতে বিশ্বজোড়া জনমত সংঘঠিত হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘ সহ প্রায় সব দেশ চাইছে সু কি যেন নিরাপদে থাকেন।

ইতিহাসের এ এক আশ্চর্য পরিহাস। দেশেরই জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনির দমন নীতি ও গণহত্যার নীরব সমর্থন করেছিলেন সু কি। বিশ্বজুডে ধিকৃত হন তিনি। তাঁর নোবেল কেড়ে নেওয়ার জনমত সংঘটিত হয়েছিল। সেনাকে সমর্থন জানানো সেই সু কি এখন বন্দি।

চারমাস আগে ফেব্রুয়ারি মাসে মায়ানমারে ঘটেছে রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থান। জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সু কি এবং তাঁর দস্যু এনএলডি পুনরায় সরকার গড়েছিল। সেই সরকার শপথ নেওয়ার আগেই বর্মী সেনা দখল করে নেয় ক্ষমতা। সেনা প্রধান মিং অন লাইংয়ের নেতৃত্বে মায়ানমার ফের সামরিক জমানায় প্রবেশ করে।

সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই ইয়াংগন শহরের বাসভবনে বন্দি ছিলেন সু কি। তাঁর সমর্থনে শুরু হয় গণতন্ত্র রক্ষায় আন্দোলন। পরিস্থিতি বুঝে সু কি সহ অপসারিত সরকারের মন্ত্রীদের গোপন স্থানে বন্দি করে রাখে সেনা। সেই গোপন আস্তানা থেকেই বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন সু কি। বর্মী সেনার তরফে জানানো হয়েছে, যাবতীয় আইনি সুবিধা পাবেন সু কি। তাঁর আইনজীবীরা সরাসরিয়ে সেনা প্রতিনিধিদের সওয়াল করতে পারবেন। চাইলে সু কি নিজেও সওয়ালে অংশ নিতে পারবেন।

কী অভিযোগ মায়ানমারের কিংবদন্তি ‘গণতন্ত্র প্রেমী’ নেত্রী সু কি-এর বিরুদ্ধে ? ক্ষমতা দখলকারী বর্মী সেনার অভিযোগ, নিবন্ধনহীন ওয়াকিটকি ব্যবহার করে বিদেশে কথা বলা, কোভিড দূরত্ব বিধি না মেনে জনসভা, সেনা বাহিনির ক্ষমতা কমানোর চেষ্টা ও গোষ্ঠী সংঘর্ষের উস্কানি দেওয়া।

অন্যদিকে এনএলডি দলের দাবি, সেনা শাসন কায়েম রাখতে দলনেত্রী সু কি সহ বাকিদের বিরুদ্ধে ভুয়ো অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্বাচনে ভরাডুবি হয় সেনা সমর্থিত দলের। সেই কারণে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন সেনা প্রধান মিং অন লাইং।

এদিকে সু কি-র মুক্তি ও গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে মায়ানমার জুড়ে চলছে গণআন্দোলন। সেই আন্দোলন দমাতে সেনা বাহিনির বিরুদ্ধে গণহত্যার একের পর এক অভিযোগ আসছে। বিবিসি জানাচ্ছে, গণতন্ত্রীদের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে কমকরেও ৮০০ জন নিহত। বেসরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা হাজার পেরিয়ে গিয়েছে।

এখন বিচার চলছে। বন্দিনী সু কি একলা মুখোমুখি সেনা সরকারের। রোহিঙ্গা গণহত্যায় নীরব নেত্রীর চারিদিকে মেশিনগানের নল অট্টহাসি করছে।

About A..

Check Also

সেই ভয়ঙ্কর সৌরঝড়। -ফাইল ছবি।

আসছে ভয়ঙ্কর সৌরঝড়, ভেঙে পড়তে পারে বিশ্বের ইন্টারনেট যোগাযোগ, অশনিসঙ্কেত গবেষণার

ভয়ঙ্কর সৌরঝড় (‘সোলার স্টর্ম’) আসছে। যার ফলে ভেঙে পড়তে পারে গোটা বিশ্বের যাবতীয় ইন্টারনেট যোগাযোগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *