Tuesday , September 21 2021
Breaking News

শুরু হল পৃথিবীর ঋতুকাল, অম্বুবাচী চলাকালীন এই কাজগুলি ভুলেও করবেন না!

কথায় বলে বারো মাসে তেরো পার্বণ। তার মধ্যে অম্বুবাচীও (Ambubachi) হিন্দু ধর্মের একটি অন্যতম আচার। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে মঙ্গলবার সকাল ৫টা ৩৯ মিনিট থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে তিথি। শেষ হবে বাংলার ১০ আষাঢ়, শুক্রবার অথাৎ ইংরেজির ২৫ জুন, শুক্রবার। সন্ধে ৫টা ৩৪ মিনিটে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, পৃথিবীকে মা বলা হয়। সনাতন বিশ্বাস মতে, ধরিত্রীও বছরের এই তিনদিনই ঋতুমতী হন।

করোনা আবহে (corona) কামাখ্যা-সহ বন্ধ দেশের প্রায় সব মন্দিরেরই দরজা। আষাঢ় মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত পালন করা হয় এই রীতি। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে বলা হয়, ধরিত্রী মা ঋতুমতী হওয়ার কারণে ভূমিকর্ষণ ও বৃক্ষরোপণ করা নিষিদ্ধ। মনে করা হয় এই তিন দিনে গৃহ প্রবেশ, বিবাহ ও অন্যান্য শুভ কাজ করা উচিত নয়। এছাড়াও আরও যা যা বলা হয়-

১) হিন্দু শাস্ত্র মতে, এই সময়ে অন্য কোনও বিশেষ পুজোর আয়োজন না করাই ভালো। তবে, কোনও কোনও বছর এই সময়ে রথযাত্রার উৎসব পড়লে, তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই করা যেতে পারে। কারণ রথযাত্রাকে নিত্যকর্ম হিসাবেই ধরা হয়।

২) যাঁরা আদি শক্তির বিভিন্ন রূপ পুজো করেন, যেমন মা কালী, দেবী দুর্গা, দেবী জগদ্ধাত্রী, মা বিপত্তারিণী,মা শীতলা, দেবী চণ্ডীর মূর্তি বা পট পূজা করেন, তাঁরা এই সময়ে মূর্তি বা পট লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখবেন।

৩) অম্বুবাচীর (Ambubachi) দিনগুলিতে পুজোর সময়ে কোনও মন্ত্র পাঠ করবেন না, কেবল ধূপ ও দ্বীপ সহযোগে ঠাকুর প্রণাম করবেন।

৪) অম্বুবাচীতে (Ambubachi) দেবীর মূর্তি বা পট কখনওই স্পর্শ করা উচিত নয় বলে মনে করে হিন্দু শাস্ত্র।

৫) অম্বুবাচীতে (Ambubachi) গুরুর পুজা চলতে পারে। কারওর গুরু যদি নারী হন, অর্থাৎ গুরুমা হন, তাহলেও পূজা চলতে পারে, তাতে কোনও দোষ নেই বলে মনে করে হিন্দুশাস্ত্র ।

৬) যাঁরা শাক্তমন্ত্রে দীক্ষিত, তাঁরা এইসময়ে গুরুমন্ত্র জপ করতে পারবেন। হিন্দুশাস্ত্র মতে জপে কোনও দোষ নেই বলে মনে করা হয়।

যেহেতু এই কয়েকদিন মা ঋতুমতী থাকেন তাই বলা হয় এই সময় যৌন সংসর্গও অনুচিত। মা ঋতুমতী হলে তবেই ধরিত্রী শস্য শ্যামলা হবে, ফসল ফলবে। ধরিত্রী মায়ের সঙ্গে মেয়েদেরও তুলনা করা হয়। সে কারণেই এই কয়েকদিন যৌন সংগম থেকে বিরত থাকাই ভালো। কারণ মেয়েরা ঋতুমতী হলে তবেই সন্তান ধারণে সক্ষম হন। মেয়েরাই তো আলোর উৎস। এছাড়াও কামাক্ষ্যা কামের দেবী হিসেবে পরিচিত।

মহাভারত , ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ , নীল তন্ত্র, রুদ্রযামল , শিবচরিত, শাক্তানন্দ-তরঙ্গিণী এবং মহাপীঠ নিরূপণ ও মঙ্গলকাব্যের সূত্র ধরে বলা যায় , সতীর ৫১ খন্ডের একটি খণ্ড এই কামাক্ষা ধামে পতিত হয়েছিল সেটি হলো সতীর অঙ্গের “যোনি” খণ্ড , তাই এই পীঠস্থান কে শ্রেষ্ঠ পীঠ বলা হয়ে থাকে এবং এর জন্যে কামেশ্বরীও বলা হয়ে থাকে। তাই অম্বুবাচীতে কামাক্ষা ধামে যোনী শিলা হতে এখনো পর্যন্ত অদ্ভুত ধরনের লাল জলের ধারা বইতে দেখা যায় এবং ওই জল ব্রহ্মপুত্র নদে বয়ে যেতে দেখা যায় । ফলে তখন ব্রহ্মপুত্রের জলও লাল হয়ে যায়। তাই এই সময় পৃথিবীর সমস্ত জলরাশি অপবিত্র থাকে। আর এই অম্বুবাচী তিথি পর্যন্ত সর্বত্রই ঝিরিঝিরি বা কখনও মুষলধারে বৃষ্টি হয়। ঠিক যেমনটা হয় রজস্রাবের সময়ে।
তথ্যসূত্রঃএইসময়

About S..

Check Also

রথযাত্রার দিন এই কাজগুলো করে শতজন্মের পূণ্য অর্জন করুন

১২ জুলাই, বাংলায় ২৭ আষাঢ় রথযাত্রার পূণ্য তিথি। রথযাত্রা অত্যন্ত পবিত্র একটি উৎসব। এই উৎসব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *