Tuesday , September 21 2021
Breaking News

প্রবল বৃষ্টির মাঝেই জল ছাড়ল মুকুটমণিপুর

বাঁকুড়া : জল ছাড়া হলো মুকুটমনিপুর (mukutmanipur) জলাধার (dam) থেকে। সেচ দফতর (irrigation department) সূত্রে খবর, সোমবার রাত ১০ টায় মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে প্রথম দফায় পাঁচ হাজার কিউসেক জল (water) ছাড়া হয়েছে।

কংসাবতী জলাধারে স্বাভাবিক জলস্তর ৪৩০ ফুট। কিন্তু বর্তমানে কংসাবতী জলাধারে ৪২২.১ ফুট জল রয়েছে। অর্থাৎ, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কিছুটা নীচে রয়েছে জলস্তর। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় আগাম সতর্কতা হিসাবে এই জল ছাড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বর্ষা শুরু হতেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে বাংলায় (rain)। আর তার হাত ধরেই আবারও বিপদে ঘাটাল (ghatal)। সম্প্রতি অনেকটা একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ইয়াস(yaas) ঘূর্ণিঝড়ের (cyclone) সময়। এবারের ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে অভিনেতা দেব (dev) নিজেই জানালেন সেখানে বন্যা (flood) পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুষলেন ডিভিসিকে।

দেব জানান, ‘ডিভিসি ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার ফলে মনসুকা এবং ঘাটাল পৌরসভার ১,২,৫,৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমার প্রতিনিধিরা ওখানে রয়েছে এবং আমিও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। প্রশাসনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতার ফলে পরিস্থিতি এই মুহূর্তে আমাদের অনুকূলে আছে। অযথা আতঙ্কিত হবেন না, সকলে সুস্থ ও সুরক্ষিত থাকুন।’

বন্যায় ঘাটালের মানুষের বহু ক্ষতি হয়। সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি জীবনহানিও হয়৷ ফলে মেদিনীপুরবাসী কয়েক দশকের দাবি, বন্যা ঠেকাতে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ রূপায়ণ করা হোক। কিন্তু সেই কাজ এখনও পর্যন্ত করতে না পারার জন্য কেন্দ্রকে দুষেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর অভিযোগ, ‘মোদী সরকারের অসহযোগিতার জন্যই প্ল্যান কার্যকর করতে সমস্যা হচ্ছে।’ দেবও এ নিয়ে সংসদে নিজে সুর চড়ালেও কোনও লাভ হয়নি।

প্রয়াত সিপিআই নেতা গুরুদাস দাশগুপ্ত সাংসদ থাকাকালীন বহুবার সংসদে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে দরবার করেছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। ২০১৪ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার পর অভিনেতা দেব ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০১৯-এ দ্বিতীয়বার সাংসদ হয়েছেন দেব। কিন্তু সেই মাস্টার প্ল্যান পাশ হয়নি।

নির্বাচনী প্রচারে ঘাটালের দাসপুর এবং পরে চন্দ্রকোনা থেকে ফের সেই মাস্টার প্ল্যানের কথা শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। তিনি বলেছিলেন “আপনাদের তিনটে সমস্যা। কপালেশ্বর কেলেঘাই। ওটা করে দিয়েছি। আর একটা মেদিনীপুরের খালের সংস্কার। ওটা ১৬০ কোটি টাকা খরচ করে করে দিয়েছি। আর একটা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। আমরা বলছি দিল্লিকে ক্লিয়ারেন্স দাও। না দেয় টাকা, না দেয় ক্লিয়ারেন্স। তা সত্ত্বেও চারটে খালের কাজ আমরা শুরু করেছি। বাদবাকি কাজ আমরা করে দেব।”

মমতা বলেছিলেন, “আপনারা জানেন ঘাটাল শহরের প্রাণ শিলাবতী নদী। সেই জন্যই এলাকাটি এক শস্যশ্যামল। চিরকাল মানুষ বলত কপালেশ্বর কেলেঘাই কবে হবে? ৩৪ বছরে সিপিএম, কংগ্রেস বা বিজেপি কেউ করেনি। আমরা ৭০০ কোটি টাকা দিয়ে এই প্রকল্প ৯৯ শতাংশ করে দিয়েছি। তাতে অনেক জায়গায় বন্যা হওয়া কমবে। তাতে দাসপুর, ঘাটাল, চন্দ্রকোণা, ডেবরা এই সব এলাকায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছি। কিন্তু দিল্লি আমাদের করতে দিচ্ছে না। ওরা অফিসটা কলকাতা থেকে বিহারে নিয়ে চলে গিয়েছে।” তিনি আরও বলছেন, “আমরা বলেছি ২০০০ কোটি টাকা আস্তে আস্তে দিয়ে দেব। আমরা করে দেব। যাতে এই সব ব্লক বন্যায় না ভাসে। একটু সময় লাগবে করতে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার করতে দিচ্ছে না। তা সত্ত্বেও কিছু কাজ ইতিমধ্যেই করেছি।” এরপর হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়িত না হলে মোদীর অফিসে গিয়ে এবার ধর্ণা দেব।’

তথ্যসূত্রঃKolkata24x7

About A..

Check Also

পীযূষের নিশানায় হিদেসি ই-কমার্স সংস্থা।

ছোট ব্যবসা খেয়ে নিচ্ছে আমেরিকার ই-কমার্স, মন্ত্রীর নিশানায় কি অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট

মাইক্রোব্লগিং সাইট থেকে এ বার আমেরিকার ই-কমার্স সংস্থার সঙ্গে সঙ্ঘাত গড়াল ভারতের। নাম না করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *