Tuesday , September 21 2021
Breaking News
শনিবার চুঁচুড়ার তৃণমূলের প্রতিবাদ।

গরুই কি ভরসা? পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে চুঁচুড়ায় অভিনব প্রতিবাদে প্রশ্ন তৃণমূলের

পেট্রল-ডিজেলের মতো পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গরুর গলায় পোস্টার ঝুলিয়ে অভিনব বিক্ষোভ করল তৃণমূল। পোস্টারে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে রাজ্যের শাসকদলের প্রশ্ন— ‘পরিবহণ হিসাবে ভবিষ্যতে গরুই কি একমাত্র ভরসা?’ তবে গোটাটাই ‘তৃণমূলের নাটক’ বলে দাবি করে বিজেপি-র বক্তব্য, রাজ্যে সরকার সেস কমালেই তেলের দাম কমবে। হুগলির চুঁচু়ড়ার মতোই দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটিতে প্রতিবাদে শামিল হন শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা।

শনিবার সকাল থেকেই চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের নেতৃত্বে চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বিকেল ৪টে পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। অসিতের মন্তব্য, ‘‘প্রতিদিন তেলের দাম বাড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও যে বাড়ে, এটা বিলক্ষণ জানেন (নরেন্দ্র) মোদী। তাই মানুষকে মেরে ফেলতে চাইছেন। এ ভাবে টুক টুক করে দাম না বাড়িয়ে পেট্রল ঢেলে মানুষকে জ্বালিয়ে দিতে পারেন।’’

প্রসঙ্গত, দেশ জুড়ে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে পেট্রল-ডিজেলের দাম। শনিবার হুগলিতে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ৩৯ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১০১.৪১ টাকা। ডিজেলের দাম ৩২ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৩.৩৫ টাকা। এ নিয়ে শাসক-বিরোধীর তরজা চলছে। বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার বেশি সেস নেওয়ায় তেলের দাম বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের উপর বাজারদর ওঠানামা করে। এটা জেনেও এ সব নাটক করছে। ভোজ্য তেল, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যে ভাবে বাড়ছে, সেটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করুক তৃণমূল।’’

শনিবার বিক্ষোভের মাঝেই অবস্থানমঞ্চে তৃণমূলে যোগ দিলেন হুগলি জেলার বিজেপি-র মিডিয়া ইনচার্জ এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতা সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক অসিত মজুমদারের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন তিনি। অসিত বলেন, ‘‘সপ্তর্ষি আমাদের পুরনো ছেলে। দীর্ঘদিন বিজেপি করেছে। ফের ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল। ওকে চুঁচুড়ায় দায়িত্ব দিয়ে কাজ করাব।’’ তবে এই দলবদল নিয়েও শাসক-বিরোধীর তরজা শোনা গিয়েছে। তবে স্বপনের কটাক্ষ, ‘‘সমুদ্র থেকে এক ঘটি জল তুলে নিলে জল কমে যায় না। বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিজেপি থেকে কেউ গেলেও দলের কোনও ক্ষতি হবে না।’’

চুঁচুড়ার মতোই কুলটিতে যুব তৃণমূলের তরফে অভিনব বিক্ষোভও হয়েছে। বাংলা- ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজেদের জামা পুড়িয়ে, রান্না করে বিক্ষোভে শামিল হন দলের রাজ্য নেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ কর্মীরা।

শনিবার চুঁচুড়া এবং কুলটি ছাড়াও বালুরঘাটের ব্যাসস্ট্যান্ড এলাকায় একই ইস্যুতে তৃণমূলের বিক্ষোভ হয়। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কো-অর্ডিনেটর সুভাষ চাকি, বালুরঘাট শহর তৃণমূল সভাপতি শ্যামল লাহা, দলের যুবনেতা মহেশ পারেখ-সহ অন্য নেতারা। পাশাপাশি, যুব তৃণমূলের পক্ষে শহরের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। রবিবারও এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে তৃণমূল।

তথ্যসূত্রঃআনন্দবাজার পত্রিকা

About A..

Check Also

ফাইল চিত্র।

Dilip Ghosh on Babul Supriyo: মন্ত্রী হতে এসেছিলেন যাঁরা, তাঁরা কোথায়? দিলীপের বাবুল-কটাক্ষের লক্ষ্য দিল্লি?

বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র তৃণমূলে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত দলের উপরতলার দিকে আঙুল তুললেন …